Tuesday, 23 November 2021

মধুময়-- সোনালি মুখার্জি

মধুময়

সোনালী মুখার্জি


স্বপ্ন তোমায় দিলাম লিখে

রেখো যত্ন করে, 

ভালোবাসা দিলাম তোমায়

নিও হৃদয় ভরে l

তোমার সাথেই পথ চলা, 

তোমায় নিয়েই জীবন, 

তোমায় নিয়েই স্বপ্ন দেখা, 

দিয়েছি তোমায় মন l

মিষ্টি হাসি মুখটা তোমার

দেখতে ভালো লাগে, 

তাই তো শুধু তোমার কাছে

হারতে ভালো লাগে l

কবি--মহুয়া বিশ্বাস

কবি
----------------
মহুয়া বিশ্বাস

হে   কবি   তোমার   রবি
আজও  যায় নি অস্তাচলে।
কলমের বাণী যাবে না থামি
অগ্নিবীণার সুরে দূর হতে বহুদূরে
ঝংকৃত হবে অনাগত কালের...
অমৃতবাণী।
নিরবে নিভৃতে বর্তমান-ভবিষ‍্যতে
রয়ে যাবে স্মৃতির কোঠরে কোঠরে
আদি- অনন্তকালের উষ্ণবার্তা।
স্তব্ধ জীবন,মলিন মন বিশুদ্ধ হবে
দূষিত কর্দমাক্ত জনজীবন
 ক্ষয়ে যাবে....
শীতল তরু ছায়াতলে....
স্নিগ্ধ নদীবক্ষে...
ঘিরে রবে উজ্জ্বল আলোক পাথারে।
রক্তে রক্তে শিরায় -উপশিরায়
স্পন্দনে-বন্ধনে সমুদ্রের গভীরতায়
অম্বরমাঝে অট্টহাসির গর্জনে,তর্জনে...
প্রতিধ্বনিত হবে....
 মহাজীবনের জয়ধ্বনি।।

----------------------------

Monday, 22 November 2021

তৈমুর খানের দুটি কবিতা--

তৈমুর খানের দুটি কবিতা--

যুদ্ধ

  💚

 শরীরে শরীর নেই, শূন্যতায় ভরা

 মন কোথাও উড়ে গেছে, যায়নিকো ধরা


 চারিপাশে কোলাহল ব্যর্থ শিকারির

 ষড়রিপু ঘিরে ধরে ছুঁড়ে যাচ্ছে তির


 রক্ত কি দেখতে পাও? কোথাও রক্ত আছে?

 নায়ক-নায়িকা মায়া, বসেছে গল্পের কাছে


 কিছুতো ক্ষরণ হচ্ছে, অলীক বাতাসে মিশছে শ্বাস

 নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে শালীনতা, অন্ধকারে তারও সর্বনাশ


 আলোর লিঙ্গরা এসে বিদ্ধ করছে কাকে?

 কেউ কিছু বলছে না তো! মাছ ঢাকছে শাকে!


 দূর থেকে ঢেউ আসছে, কাঁপছি অন্তর্বর্তী উত্তাপে

 ক্রমশই ভিজে যাচ্ছি; ঘাম জমছে তরোয়ালের খাপে।


মনুষ্যপাখি

       💚

 রাত এলেই বৃক্ষ হয়ে যাই 

 অন্ধকারে ডাকি, চুম্বন পাঠাই

 কত ফুল ফোটে, পল্লবে পল্লবে ধ্বনি

 নীরবতাগুলি রোজ করে কানাকানি


তুমি খোঁপা বাঁধো আর সমাধি ভেদ করে উঠে দাঁড়াও

আর সাদা ডানায় জ্যোৎস্নার বক হয়ে উড়ে-উড়ে নামো

এখানে কাঁঠাল বন, হরিতকী বনে 

কিশোরীবেলার ছুটোছুটি জেগে ওঠে     

যুবতী ঘ্রাণের আলোড়নে আমিও শিহরন পাই


 দ্যাখো দ্যাখো বৃক্ষ আজ আমি

 তুমিও প্রবল মনুষ্যপাখি মৃত্যুর পরও মৃত্যুহীন

 নিশির প্রহর জুড়ে অরণ্য কাঁপাও…

Sunday, 21 November 2021

ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা--

ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা--

মুহূর্তের জন্ম

একটা মুহূর্ত জন্মাল

মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে।

এমনি করে জন্ম হচ্ছে

প্রতিদিন শত শত মুহূর্তের।

সব মুহূর্তরা হারিয়ে যাচ্ছে

তলিয়ে যাচ্ছে মহাকালের গর্ভে।

 
এক একটা মুহূর্তকে

আটকে রাখছে মহাকাল।

ইতিহাস সৃষ্টি করার অভিপ্রায়ে।


অনিদ্রা

একটা রাত যদি তুমি আমার সঙ্গে কাটাও

আমি পাগল হয়ে যাব।

একটা রাত যদি তুমি না আস আমার কাছে

আমি স্বপ্ন দেখে যাব।

তোমার শত্রুকে যদি পাঠাও একদিন

আমি বন্ধু হয়ে যাব।

তুমি যদি না আস আর কোনো দিন

আমি ধন্য হয়ে যাব।  

নববর্ষের কামনা

 উড়ায়ে দাও সব কিছু যা আছে পুরাতন,

সব হিংসা, দ্বেষ, ক্রোধ কর বর্জন।

এস, এস ধরি মোরা নতুনের পথ,

ভালবাসা দিয়ে গড়ি স্বপ্নের রথ।

 মানুষে মানুষে ভেদ কর নাকো আর,

পোশাক-আশাক যা হোক

 দেখ হৃদয়টা তার।

 ধর্মে থাক মতভেদ

কর্মে না চাই,

 মানুষ আমরা সব

মনে ভাই ভাই।

ঘুচে যাক মলিনতা

আবিলতা যাক,

মানবিকতা দিয়ে লেখা

স্মৃতিটুকু থাক।


Saturday, 20 November 2021

সম্পাদকীয়--

সম্পাদকীয়-- 

অনিবার্য কারণবশত এবারের, স্বরধ্বনি প্রকাশে বিলম্ব ঘটলো l ভাষায় কিংবা কাব্যে অন্যরকম অভিজ্ঞতা হলেও বাস্তব কখনো ভয়ঙ্কর ও কঠোর হয় l পরিস্থিতি মানুষকে সজাগ করে দেয়, জানিয়ে দেয়, পৃথিবীতে আমরা কতটা নশ্বর l আজ থাকা কাল না থাকার অনুভব মানুষকে প্রচন্ডভাবে নাড়া দিয়ে যায় l দুঃখ ব্যথা যখন হৃদয়ের নিগঢে থাকে তাকে ভাবনার, তাড়না তাড়নায় অনুভব করতে পারি মাত্র, আর অগ্নিকুন্ডে ঝাঁপ দিলে বাস্তব পুড়ে যাওয়ার যন্ত্রণা আমরা অনুভব করতে পারি l 

যাক এ সব সুখ দুঃখ ব্যথার কথা l এ সংখ্যা অনেকটাই অগোছালো হয়ে থাকবে, সময় ও , মনের পরিধির বাইরে এসে জোর করে কোন কাজই পূর্ণত হয় না l লেখক ও পাঠক বর্গের কাছে তাই আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি l সবশেষে প্রতিবারের মত পাঠক ও লেখকবর্গকে আমাদের স্বনির্বন্ধ নুরোধ জানাই, আপনারা পড়ুন আমাদের তথা আপনাদের স্বরধ্বনি ব্লগ পত্রিকা আর আপনাদের ভালো লাগা মন্দ লাগার কথা অকপটে প্রকাশ করুন l নিবেদন ইতি -- সম্পাদকমন্ডলী, স্বরধ্বনি ব্লগ পত্রিকা l

সহঃসম্পাদকের কলমে: 

কাহার সময় সমান নাহি যায়। সময় তিনটি শব্দর, কিন্তু এটাই কখনো করে তোলে মনকে দুখের আবার কখনো আনন্দে ভরে দেয়। সেই সময়কে ধরেই চলে কাজ। আমাদের কাজ মানুষের কলমের কাজ মানুষের সামনে তুলে ধরা। সেই কলমেই সৃষ্টি হয় কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ আর কতো কিছু।-- শমিত কর্মকার l

সহ সম্পাদকের কলমে--

প্রকৃতির  স্বাভাবিক নিয়মেই দিন শেষে রাত হয়, আর রাতের পর দিন  ।  দিন মাস বছরের আবর্তনে ঘুরে ফিরে আসে এক ঋতুর পর অন্য ঋতু। সেই আবর্তনের নিরিখেই  হেমন্তের আগমন নিয়ম মেনেই।

হেমন্তের বেলা বড়োই স্পর্শ কাতর, রোদের তাপেও শীতের পূর্বাভাস হিসেবে হিমেল বাতাসের উপস্থিতি। তাও বা  নাহয় সয়ে নেওয়া যায় কিন্তু হেমন্তের বিকেলটা যে  বড়ো তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়, রেখে যায় একটা মন কেমনের অনুভূতির রেশ।

বিশেষ করে এই এত উৎসব মুখরতার দিন গুলির পরে পরেই কেমন যেন একটা ফুরিয়ে যাওয়ার অনুভূতি !হঠাৎ করেই বুকের ভেতর গুনগুনিয়ে ওঠে .......

"আর নাইরে বেলা, নামলো ছায়া ধরণীতে

এখন চলরে ঘাটে কলসখানি ভরে নিতে। "

শূণ্য কলসটুকু ভরে নিতেই তো হেমন্তে ফসল কেটে ঘরে তোলার পালা। 

হেমন্তের দ্রুত ঢলে পড়া জীর্ণ বেলা শেষে সন্ধ্যা নেমে আসে, একাকীত্বের নির্জনতায় । আকাশ প্রদীপের স্তিমিত আলোর পানে চোখ মেলে স্মৃতিগুলি ছুঁতে চায় মন আর স্মৃতির সলিলে অবগাহনের ফলে একটি একটি করে তারা ফোটার মতো ফুটে ওঠে সৃজনশীল মনের মণি মুক্তোগুলি। সেই মণিমুক্তো দিয়েই গড়ে তোলা আজকের স্বরধ্বনি ব্লগের পাতাখানি।-- সাবিত্রী দাস


শম্পা বণিকের কবিতা--

শম্পা বণিকের কবিতা--
রোড শো ২০২১
------------------------
আলাদিনের চিরাগ হাতে ওই আসে গণতন্ত্র
রামধনু পায়রা উড়িয়ে......
কালো কালো মাথাগুলো কালোজাম মনে হয়
কথার ভাইরাস গলা বেয়ে নেমে
কাদার লোহিত স্রোতে হাড়হিম নর্দমার
রোড শো মিলিয়ে গেলে
রাস্তাটা ঝিমায় সন্ধ্যায়

 ওই ওরা আসে অন্ধকারে
প্লাস্টিক মোড়া চুপি চুপি মিছিলে
আবার ...আবার...আবার....
আরও ...আরও...
রোড শো করতে করতে চলে যায়
পরিচয়হীন
অশ্রুহীন
বর্ণহীন
পতাকা হীন

পথ কষে চলে, আজ কাল পরশুর অঙ্ক.......

------------------------------
২)
এসো ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি 
-------------------------------
অ্যাম্বুলেন্সের আর্তনাদে বালিশ চাপা দেয় কান
চোখ খুললেই প্লাস্টিক মোড়া এ কোন ন্যাড়াপোড়া.......
আগুন ভেজে নিজের কান্নায়
বারুদ ছড়ানো মাঠেঘাটে
মিউজিক্যাল চেয়ারে ঘোরে মানবতার শব
তবু তোমার আমার ঘরে ঘরে উৎসব !
থামো
এসো পালন করি
দু মিনিট নীরবতা.......
মানুষে মানুষে এসো ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি
শিরদাঁড়া খুঁজে পাবই পাব ঠিক
থামো
এসো পালন করি এবার
দু মিনিট নীরবতা......

----------------------------

৩)
তবু ফিরে যেতে হয়
------------------
গতরাতে যে মেয়েটার স্বপ্নগুলো জলছবি হয়ে গেলো
সেও একদিন কাগজওয়ালার কাঁধে তুলে দেবে সব
বিষন্ন ভোর কেটে গেলে, নিয়মে........
আলোয় ফেরাই জীবনের নিয়তি
বুঝেছিলাম সেদিন যেদিন এক কাকভোরে
ধোঁয়ার কুণ্ডলী বেয়ে আকাশের ক্যানভাসে 
লেগেছিল তেতো বাৎসল্যের রং
ওরা জল ঢেলে তেতো কেটেই ফিরেছিল ঘরে
বিষন্ন ভোর ছুঁয়ে নেমেছিল আলোর সকাল, নিয়মে.......

সামিয়ানা উড়ে গেলেও
এভাবেই ভেজা ভোরেরা আসে দেখেছি প্রতিবার
তবু ফিরে যেতে হয় .....
পৃথিবীর আলোর আয়োজনে ।
ফিরে যেতে হয় কবির গানে........
"আরও বেদনা আরও বেদনা প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা"........
আরও আলো আরও আলো এই নয়নে প্রভু ঢালো"

................................

জলের আল্পনা..শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার

জলের আল্পনা
....................
শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার


চোখের জলের গল্প লেখো 
ভরিয়ে অনেক পাতা,
রইবে তবু আসমানী মন,
আর তোমার খোলা ছাতা!

বাসলে ভালো নিয়ম ভেঙে
ভীষণ ভয়ে ভীত,
একটু আড়াল হাজার চোখে,
বড়ই যে গর্হিত.....

মুখ নামিয়ে, পাশ কাটিয়ে,
গেলেই যাওয়া যেত,
ভালবাসাই অবুঝ বড়,
জানোই,  তুমি সে তো!

নোনতা জলের স্বাদ যে দারুণ,
বুঝবে জানি শেষ কালে,
ভালবাসাই নামবে যখন,
উপচে দু'চোখ, দুই গালে.....

...............

দখল--সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

দখল
সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

ভূত ভূত বলে অতীত তাড়িয়ে দিয়েও,
ভবিষ‍্যতের পরে ভূত দেখাটা কেন,
অদৃশ‍্য যা কিছু তাই বুঝি হয় স্বপ্নময়,
কল্পনার রসে জারিত হয়ে তা ফুটছে,
একটা অজানা রোমহর্ষক অবয়বে,
কথনে কয়েকগুন হয়ে বিভীষিকা নামে,
গুজবের সেতু পেরিয়ে মতামতটা প্রকট,
যুক্তি বড্ড তেঁতো,কোন আশা জাগায় না,
অতএব বাতিল আপাত কঠিন বাস্তব,
অবাস্তবায় আচ্ছন্ন দিন আপনিই পার,
ঠেলে স্রোতের বিপরীতে যেতে হয় না,
ফুরফুরে মেজাজটা আরো ফুরফুরে হয়,
বিজ্ঞান শুধু হুকুম তামিলে কাজে লাগবে,
অনায়াস জীবনকে আরো অনায়াস করতে,
নিরুপদ্রব আলসে জীবনে ভুঁইফোড় শান্তি,
মাথার দরজাগুলো সব অবিজ্ঞানের দখলে,
রেঁনেসায় সরানো অন্ধকারগুলো ওঁৎ পেতে,
যখন খুশী দখল নিতে পারে অন্তর্লোকের।

....................................................

ভালোবাসি--অনির্বান চ্যাটার্জী

ভালোবাসি
অনির্বান চ্যাটার্জী

ভালোবাসি বলবো বলে 
একছড়া ফুল কেনার বাই
উঠলো মনে জোয়ার ভাঁটা
আস্তে মাঝি অন্যথায়
মনের অতল অন্ধকারে
উঠবে ভীষণ ঝড় যে আজ
নাও কে করে উথাল পাতাল
সামলা মাঝি নিজের কাজ।
ভালোবাসি মাঝি তাকে
মনসাগরের মধ্যে দ্বীপ
তার মাঝে এক ভাঙা প্রাসাদ
কন্যা বসে কপালে টিপ
বলবো কি আর মাঝি তোকে
কুয়াশা ঘেরা সে এক দেশ
নামতে গেলেই ঝড়টা আসে
নাও কে করে মুহূর্তে শেষ।
ভালোবাসি বলবো বলে
একছড়া ফুল কিনেই নি
দূর থেকে হাঁক পাড়িস মাঝি
ফুল ছড়িয়ে জলেই দি।

কালের কাকতাড়ুয়া-- গোবিন্দ মোদক

কালের কাকতাড়ুয়া 
গোবিন্দ মোদক 

কবে যেন নদীর কাঁধে হাত রেখে
অনুরোধ জানিয়েছিলাম ---
ধুয়ে নিয়ে যাও সব শোক-তাপ
আর দুঃখ-যন্ত্রণার অঙ্গার।
সাগরের পায়ের কাছে বসে মিনতি করেছিলাম ---
ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা করে সীমাহীন হও।
আর অবারিত আকাশকে বলেছিলাম ---
কিছু উদারতা দিও, দিও প্রশস্ত বুক ....

কিন্তু সব পরমায়ু ঝুলিতে নিয়ে
মেঠো পথ ধরে হেঁটে চলে গেছে মহাকাল ....
পথের ধুলোতে আজ শুধু পদচিহ্ন তার 
আর দিকচক্রবালে অনন্তের হাতছানি !

ভাবি ---
যেতে হবে ....
যেতে হবে রেখে দিয়ে সমুহ ক্রোধ,
আত্মগ্লানি, না পাওয়া বেদনার পাথর 
আর পরাজয়ের হতাশা ;
মৃত্যুকে সত্য করে ওড়াতে হবে সাদা নিশান, 
তখন খড়্গ হাতে শাসন করবে
কালের কাকতাড়ুয়া।
=======================

আশিস ভট্টাচার্য্যের কবিতা--

আশিস ভট্টাচার্য্যের কবিতা--
কর্ণের শেষ সংলাপ

আমি কর্ণ, মহাভারতের এক খলনায়ক।
 এই মৃত্যু মুহূর্তেও জানলাম না ভাগ্য বিধাতা কেন আমার প্রতি বিরূপ।
আমি সহিষ্ণু ,বীর , সাহসী, পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান , কর্তব্য সচেতন, ধার্মিক ,ঈশ্বরসাধক আমি দানে হরিশচন্দ্র, আমি ক্ষাত্রবীর্যে তুলনাহীন অথচ আমি আমার মায়ের কুমারী বেলার অসংযত কামনার ফল।
মহাতেজী সূর্য আর মাতা কুন্তীর প্রেমহীন অবৈধ মিলনে আমার জন্ম।
জন্মলগ্ন থেকে আমি পরিত্যক্ত, উপেক্ষিত, বিসর্জিত।
অসীম শক্তিধর সূর্য আমার পিতা হওয়া সত্ত্বেও আমি সূতপুত্র বলে পরিচিত এবং অবহেলিত।

গুরু দ্রোণের থেকে শেখা অস্ত্রবিদ্যার পরখ করতে আমি উপস্থিত ছিলাম হস্তিনাপুরের স্বয়ম্বর সভায়।
দ্রৌপদী আমায় পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে দেননি
তার রুঢ় প্রত্যাখ্যান আমাকে  ক্ষাত্রসমাজে লজ্জিত, নতশির ,হতবিহ্বল করে তুলেছিল।

স্বীকার করছি অভিমন্যু বধে
 আমার সক্রিয়তা অধর্ম ছিল
কিন্তু দুর্যোধনের কাছে ঋণ আমাকে অবিবেকী গড়ে তোলে‌।

রুঢ় প্রত্যাখ্যানের জ্বালা মেটাতে দ্রৌপদীকে দ্যূত ক্রীড়ার পর আমি অপমান করেছি কিন্তু সে তো ক্ষাত্রধর্ম।
কবচ কুণ্ডল দান না করলে ভ্রাতা পার্থর পক্ষে অসম্ভব ছিল আমাকে হারানো , কৃষ্ণ আমার পরাজয়ের নেপথ্য নায়ক তুমি।
নির্লজ্জের মত আমার মা কুন্তী এসেছিলেন পুত্রদের প্রাণ ভিক্ষা করতে।
স্ত্রী বৃশালী আমায় পূর্ণ তৃপ্তি দিতে পারেননি।
অসহ্য যন্ত্রণা গোপন করে গুরু ভার্গবের সেবার পুরস্কার পেয়েছিলাম।
নির্মম অভিশাপ কিন্তু কৃষ্ণ সব রহস্যের মূল তুমি , তুমি আমার মৃত্যুর কারণ। আমার মা কুন্তী কি শেষ মুহূর্তে আমার চুলে হাত বুলিয়ে দেবেন ? আমার শেষ ঘুম ঘুমানোর আগে আমায় পায়ের ধুলো পবিত্র করো কৃষ্ণ।
**************

আমি পৃথা ওরফে কুন্তী


আমি যদুবংশীয় রাজকন্যা পৃথা ওরফে কুন্তী
মহর্ষি দুর্বাসার আশীর্বাদে আমি সন্তান কামনায় যেকোনো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ নির্বাচন করতে পারি।

বালিকা সুলভ চপলতায় আমি আহ্বান করেছিলাম শক্তিমান সূর্যদেবকে, তিনি আমার রূপে মুগ্ধ হয়ে আমার কৌমার্য্য হরণ করেন

সেই কুমারী বেলায় আমার পুত্রকে আমি লোকলজ্জায় বিসর্জন দিয়েছিলাম নদীর জলে , মুহূর্তের তরে তাকে আর আমার দুই হাতে কোলে ফিরে পাইনি।

বিবাহিত জীবন ছিল সতীন কাঁটায় ভরা, স্বামী অভিশপ্ত তাই যৌবন ছিল মরুভূমি সমান তৃষ্ণার্ত । রাজকুল রক্ষার্থে নিজেকে সঁপে দিয়েছি ধর্মরাজ যম, পবন দেব এবং দেবরাজ ইন্দ্রের কাছে সুরম্য রাজ শয্যায় আমার তিন রাতের নায়করা প্রত্যেকে আমাকে সুপুত্রের জননী করেছেন।

আমার পুত্রবধূ দ্রৌপদীকে আমার অসতর্ক সংলাপ গড়ে তুলল বহুগামিনী।

আমার ভ্রাতুস্পুত্র শ্রীকৃষ্ণ বিশ্বের সর্ব নিয়ন্ত্রা, অথচ আমি বিছানায় অক্ষম স্বামী, সতীন, পর পুরুষের ঔরস মেখে পুত্রবতী এবং তারপরেও আমি পঞ্চসতীর একজন।

দূর্যোধন, দুঃশাসনের হাতে আমার রজস্বলা পুত্রবধূর লাঞ্ছনা আমাকে অঝোরে  কাঁদিয়েছে।  যেমন কেঁদেছি পৌত্র অভিমুন্য আর পুত্র কর্ণর মৃত্যু সংবাদে।
 আমি পৃথা আর জীবন দুঃখ-যন্ত্রণার অলঙ্কারে ভূষিতা সব বাঁধন ছিন্ন করে সুখের রাজভোগ উপেক্ষা করে তপোবন চারিণী।

---------

অমিত চক্রবর্তীর কবিতা --

অমিত চক্রবর্তীর কবিতা --
আমন্ত্রণ

অ্যান্টি–ক্লাইম্যাক্স, স্বপ্নে আসো না কতদিন, কালো আস্তরণে

ঢাকো না আমার হৃদয় পালানো আলো, ছোঁয়াও আবার

ফেন্সিংয়ের তলোয়ার, বিদ্যুতের এলোমেলো ফ্র্যাক্টাল,

এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত চোখধাঁধানো ফ্ল্যাশলাইট।

অ্যান্টি–ক্লাইম্যাক্স, প্লিজ এসো একবার স্বপ্নে,

আমি ঘুমোতে যাই ধ্যান করে, টেলিপ্যাথি করে,

নবমীর নিশি তুমি, অলৌকিক গ্রান্ডালা, তুমি কি

একঘেয়ে জল, তরঙ্গবিহীন? তার চেয়ে বরং

বেনোজল হও স্বপ্নে, তেতো, দামাল, আবর্ত – পলিমাটি ঢালো

পাথরে, উপত্যকায়, এসো একবার প্লিজ,

ঝাঁঝালো হও, ঝগড়া কর দাপিয়ে, বলো ঠাসিয়ে চড় মারব,

তবু এসো একবার

 ==================

নিজেই নিজের বিদ্যুৎ

অমিত চক্রবর্তী

 

আমি তার প্রতিটি অক্ষর চিনি,

কখনো স্বরবৃত্তে বা গদ্যছন্দে উপমায়

মুখের কথা কে যেন লিখেছে জলরঙে

বা দেয়ালে ছেপে সুরেলা এবং

বেয়াড়া শব্দের রাশিমালা।

তখন আমি শব্দ বানাতাম, এখন দূরভাষী,

ছোপ লাগাই শুধু মলাটে, জখমী পোঁচ,

এ রকম একটা দিন, পাল্টে ফেলব সব,

মসৃণ এবং নোনতা, শুধু একটা দিন দাও আমায়

তোমার ভাল লাগা কথা বা কবিতায়।

ভালবাসতে না পার, আড়ম্বর নেই

একবার শুধু তাকাতে দাও, সেই

নম্র ফোকাস, মাথা নীচু আমার

ভাললাগা বা পুরস্কারে শরীর কাঁপুক,

নিজেই নিজের সে বিদ্যুৎ সাজুক,

সেই পুরোনো বাসি অবহেলায়।  

=======================

কনক আলো

অমিত চক্রবর্তী

 

আত্মমগ্ন ছিল বলে জলও সুযোগ নেয়,

আলোর সঙ্গে গোড়ালি ভেজায় জল,

শাড়ির পাড়ে ফুলশয্যার ছোঁয়া, আদর

দেখতে দেখতে আমিও ভেবেছি এখানে বালি কম

গুঁড়ো কাঁকর, তীক্ষ্ণ পাথরে বসে কী করে তুমি

আত্মমগ্ন হলে? পা ছুঁয়ে সে মুখ তুলেছিল, সেই আলো,

কনক আলো বুঝি, মায়া ছবি মানে লম্বা চুল, এলোকেশ,

যখন অন্ধকার তাকে ঘিরে রাখে। সেই জেনে

আলোও উদ্গ্রীব এখন, স্পর্শ চায়, শরীর চায়,

গিটার হাতে সেরেনাড গায়, সুখ কিংবা

স্বাচ্ছন্দ্যে ভিজে যেতে চায় ভবঘুরে আলো।

কনক আলো বুঝি? আমি সামলাই তাকে।

====================

কবি পরিচিতি

অমিত চক্রবর্তীর জন্ম সোনারপুর অঞ্চলের কোদালিয়া গ্রামে। ছাত্রাবস্থায় অনেক লেখা এবং ছাপানো কলকাতার নানান পত্রপত্রিকায়।  এখন আমেরিকায়, ক্যানসাস স্টেট ইউনিভারসিটি তে কলেজ অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের ডিন। সম্প্রতি প্রকাশিত কবিতা – বাক, কবিতা আশ্রম, ছায়াবৃত্ত, বম্বে Duck, যুগসাগ্নিক, অন্যনিষাদ, বাতিঘর অনলাইন, শারদীয়া খোঁজ, শব্দের মিছিল, মহাভারত, অপার বাংলা, উত্তর আমেরিকার পত্রিকা বাঙলা লাইভ, উদ্ভাস, যুক্তরাজ্যের পত্রিকা ড্যাশ, এবং আরো অনেক পত্রিকায়।  ঋক প্রকাশনী আয়োজিত বিরহের কবিতা প্রতিযোগিতায় উচ্চস্থান। উত্তর আমেরিকার নিউ জার্সি অঞ্চলের পত্রিকা অভিব্যক্তির কবিতা বিভাগের সম্পাদক (অদিতি ঘোষ দস্তিদার ও সংগ্রামী লাহিড়ীর সঙ্গে)। প্রথম কবিতার বই “অতসীর সংসারে এক সন্ধ্যাবেলা” প্রকাশ পেল এই সেপ্টেম্বরে (২০২১) রা প্রকাশনী থেকে।

জীবনযন্ত্রণা-- দেবকুমার মুখোপাধ্যায়

জীবনযন্ত্রণা

দেবকুমার মুখোপাধ্যায়

সারাদিন যন্ত্রণার মধ্যে থাকো
               বেদনায়, আর্তনাদে সারাদিন,
কারও নিরাময় হয়, কারও বা হয় না
তবু তুমি উদাসীন নও
সংবেদনার কিছু বও।

সারাক্ষণ মৃন্ময়ীর দোরে
একমুঠো অন্নের জন্য প্রাণের আকুতি,
কেউ দেয়, কেউ হাত গুটিয়ে চলে যায়
তবু তুমি আস্থা রাখো চিন্ময়ীর পায়ে।
'হায় ' নয়, গন্ধ কিছু মিশে থাকে
         বয়ে যাওয়া বাতাসের গায়ে।

লক্ষ লক্ষ প্রাণ সাগরসঙ্গমে গিয়ে সুখী
যারা যেতে পারে নাকো,
                  আজন্ম ভাবে তারা দুখী।

অদিতি ঘটকের গুচ্ছ কবিতা--

অদিতি ঘটকের গুচ্ছ কবিতা--
মা  আসছে

নীল আকাশে যাচ্ছে ভেসে সাদা মেঘের ভেলা
ঘাসের ডগায় শিশির আগায় জল ফড়িংয়ের খেলা
শিউলি সুবাস আনছে ডেকে ঘরের থেকে বাইরে
মিষ্টি হেসে দোপাটি বলে আর তো উপায় নাইরে।
 সোনার আলো ছড়িয়ে রবি হাসছে কেমন পুবে
 অপরাজিতা খুব সাজছে আকাশ নীলে চুবে
পাখিরা সব কলকলিয়ে করছে কোলাহল
বর্ষা মেয়ের ফিরতে গিয়েও মনে দোলাচল
শাপলা শালুক মিষ্টি হেসে ভরাচ্ছে যে মন
পদ্মফুল শরৎ কালের ভীষণ আপন জন
গুনগুনিয়ে ভ্রমর কুল শোনাচ্ছে যে গান 
মৌমাছি আর প্রজাপতির বাড়ছে মধুর টান
হাওয়ার তালে দুলিয়ে মাথা হাসছে  কাশের বন 
বছর পরে মা আসছে তাইতো খুশি মন

ঢ্যাঙকুড়াকুড়, ঢ্যাঙকুড়াকুড় বাজছে খুশির ঢাক
কাঁসর ধ্বনি বোল তুলছে রোজের কাজ কদিন থেমে থাক।।

 ২
 মা

তোমার মুখটা দেখলে আমার তাঁর কথা মনে পড়ে যায়।
সেই তিনি যিনি অবহেলে হাসি মুখে  দশ দিক সামলান। 
তাঁর তো তাও দশটা হাত।
 দশ হাতে দশ প্রহরণ।
 তুমি কি করে পারো মা
 এত দুঃখ, কষ্টে তোমার বরাভয়ের এই অমলিন হাসি হাসতে।
 তোমার অবাধ প্রশয়ে বড় হওয়া
 তোমার নিরাপদ কোলে ঝাঁপিয়ে পড়া
 এই অবোধকে একটু শিখিয়ে দিও
 এই কঠিন, কঠোর পৃথিবীকে ভালোবেসে হাসতে হাসতে মোকাবিলা করার মন্ত্র।
#######################


অহল্যা


প্যাঁচার কর্কশ শব্দের মত দিন আসে
বাদুড়ের ওল্টানো ডানায় নামে রাত
নির্জন দুপুরেরা যেন হাক্লান্ত নিস্তেজ সারমেয়
বেশ কাটছে----
দিন, মাস, বছর....
পাথরের সহনীয়তা সাংঘাতিক
রোদ, বৃষ্টি, ঝড়েও দৃঢ় প্রত্যয়ী সংবদ্ধ
বন্ধু, প্রস্তুরীভূত হওয়ার সাধনায় আমরা সিদ্ধিলাভের দোর গোড়ায়
আমাদের বুক হয়ে উঠেছে পাষণের মত দৃঢ়, বিবেকহীন
শত আঘাতেও কোনো তরল নির্গত হয় না।
এসো নিজেদের বাহবা দিই
রাত্রির কালোছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হোক।  

ডিনামাইট.....

#######################

শরৎ আনবে

বলেছিলে, শরতের আলোমাখা রোদে
ডানা শুকিয়ে দেবে
 তাই বর্ষায় শালিক পাখি হয়ে ভিজেছি খুব
এখন আকাশ মেঘেই ঢেকে থাকে, রোদ ওঠে খুব কম 
ঋতুচক্র অচল হয়ে পড়ছে
ভেজা ডানা নরম হয়ে যাচ্ছে,হয়ত পচন
রোজ রাতে জ্বর আসে।
তবু জানি একদিন ঠিক তুমি শরৎ আনবে
দেবে সীমাহীন আকাশে উড়ার স্বাধীনতা
#######################
 

মহাজিস মণ্ডলের কবিতা--

মহাজিস মণ্ডলের কবিতা
নৌকা

নদী ছুঁয়েছে আকাশ
প্রকান্ড নীল নক্ষত্রের আকাশ
দু'চোখের দীঘল পাতায়
স্বপ্নেরা ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে এলে
বেজে যায় অনন্ত জলতরঙ্গ

তখন সময়ের প্রপাতে শুধু
              জীবনের নৌকা ভাসে... 


                              -০-

নক্ষত্র

সময়কে খুঁড়ে দেখি
নিজস্ব অভিমুখ এঁকে যায় নদী।

প্রত্ন অন্ধকার সরিয়ে
পাতায় পাতায় অক্ষর বিছোয়
                     রাতের রূপসী জোনাকি।

আর গল্পের পান্ডুলিপি খুলে
                 দু'চোখে স্বপ্ন আঁকে নক্ষত্র।


                              -০-

অশোক কুমার দত্তের এক গুচ্ছ কবিতা--



অশোক কুমার  দত্তের এক গুচ্ছকবিতা--

চিত্র কর

অনেক  কিছু বদলানো দরকার -- চশমার ঘষাটে  কাঁচ   সামনের বারান্দার পুরানো কার্নিশ  জানালার রঙ ওঠা পর্দা আর  স্রানঘরের বাতিল ল্যাম্প!
অনেক কিছুই বদলানো দরকার -- পুরানো স্বজন হৃদয়ের পুরানো কাঠামো য় নতুনমালিশের পালিশ!
একটা বয়স এলে মানুষ নিজেই ঢুকে পড়ে স্মৃতির গহন কন্দরে! বাতিল সামগ্রী ভেবে আজ ও তাকে কালকের সুরে  ডাকে! মন তার মজে না অশ্লীল পরচর্চা আর অশালীন প্রমোদে! সে দেখে ভয় আর ত্রাস - উৎসব পার হয়ে উড়ে যাচ্ছে নবীন পাখি! লোহার গারদ ধরে কোনো এক স্বপ্নিল কিশোর একমনে একে যাচ্ছে স্বাধীনতার রঙিন ছবি ।

মায়া / অশোককুমার দত্ত

বর্ষায়  ধারাস্রান  কবিতা  ও  গানে!
ওদিকে অরণ্য ভিজছে একাকী  আনমনে!
বৃষ্টি ঝমঝম  মেঘ পৃথিবী
আলো ভাসছে  এক  কোণে
মন চাইছে আলো ধরি
ছোট্ট কবিতার বিরল ক্ষণে!

আমাদের কেউ  কেউ পথিক হবে
আলোর হাত ধরে আমাদের  দেখাবে পথের  দিশা! আমাদের  কেউ  কেউ কবি হবে......
ফুল আর  শিশুদের ভালোবেসে  লিখে যাবে অজস্র ভালোবাসার কবিতা আমাদের কেউ  কেউ সত্যিকারের গায়ক হবে
অসংখ্য মানুষকে উদ্বেল করবে তার উজ্জীবনের  গানে!
      আর   একদিন....
আমাদের মধ্যে সত্যিকারের  কেউ হবে     হ্যামিলিনের  বাঁশিওয়ালা যে   সকল কবি গায়ক পথিক ও মানুষদের  নিয়ে বেরিয়ে পড়বে  প্রতিবাদের  টানে  কবিতায় কবিতায়  পথে - পথে   গানে - গানে
আমাদের  হ্যাঁ আমাদের  নতুন  পৃথিবীর সন্ধানে!

এভাবেই নদী  জুড়ে বয়ে শীর্ন জলধারা!
আমাদের ছোট্ট  ভাষা নদী চলবে একে বেঁকে!
যখন তখন মহতী বানর পালক বাঁধ দেবেন বেঁধে !
সচর্কিত বিস্ময়ে দেখবো আমরা গাছে গাছে ঝুলছে ইস্তেহার কবিতায় কবিগুরু বাদ --- বদলে এসেছে হায়
       শুদ্ধ ল্যাঙ্গুল সমাচার!
....................................

একক/ অশোক কুমার দত্ত

কবিতাপাঠ! সভাগৃহ অন্ধকার!
বধির  তালির ধ্বনি নিঃশব্দে
              শুন্যে  মিলায়!
বাতিল  কবিতার  ঘানি টেনে
       একা  আমি   ঘুরি ফিরি
              উদাসীন   দিগন্তরেখায়!

মুসাফির গৌতমের কবিতা--

মুসাফির গৌতমের কবিতা--

আধখোলা জানলা

তোমার আধখোলা জানলায় আঁকিবুকি কাটি একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়বের,,,কিন্তু যে তোমার জৈবিক আস্তরণের চড়াই-উৎরাই 
ডিঙিয়ে এঁকে দেয় সিংহের পরাক্রমী থাবা-সে তবে কে ?

মায়াবী জাল বিছিয়ে বসে আছ তুমি 
আমি তোমাকে মুক্ত আকাশের স্বপ্ন দেখাতে পারি,,,ঘন ঘোর শ্রাবণী অমাবস্যার 
মুহুর্মুহু বিদ্যুতের ঝলকানিতে তুমি উর্বশী হতে পারো,,,কিন্তু জানি তবুও তুমি আসতে পারবে না-কারণ তুমি যে বন্দি।

যে মাপকাঠিতে বিকিয়েছ তোমার সর্বস্ব 
যার স্বপ্ন দেখেছ,,,আজন্ম লালিত শিক্ষায়
তাকে কি সহজেই অস্বীকার করার দুঃসাহস দেখাবে ?

না পারবে না,,, তাই আমি কড়ি গুণে যাই
তোমার আধখোলা জানলায়।

(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত)

       (২)
হৈমন্তী সুখ
মুসাফির গৌতম।
             

হাত বাড়ালে ভালোবাসা 
যায় গো কেন দূরে,
কলঙ্ক আর কালিমা-তে
কপাল কেন পুড়ে ?

দুষ্টু চোখের মিষ্টি হাসি
আঘাত হানে বুকে,
সে আঘাতে ঘনায় আঁধার 
আমি মরি দুঃখে।

কিশোর বেলার খেলার পুতুল 
ছিলে তুমি বধূ ,
তোমার প্রেমে জমতো শুধু
টাটকা সতেজ মধু।

আজো তোমায় হাতড়ে খুঁজি 
রাই কিশোরী দেখে,
তোমার চলন তোমার বলন
আবেশ গন্ধ মেখে।

তুমি ছিলে হৈমন্তী সুখ
শিশির ঝরা রাতে,
তাইতো আজো কাটাই নিশি 
হিমেল আশার প্রাতেঃ।

(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত )

        (৩)
কোজাগরী
মুসাফির গৌতম             

তুমি যদি আমার আকাশে কোজাগরী পূর্ণিমার চাঁদ হতে,,,তোমার সমস্ত জ্যোৎস্না আগলে রাখতাম অন্তরতম ভালোবাসা দিয়ে। 

আজ কিছুটা সময় তোমাকে দেখে গেলাম,,,আমার সমস্ত অনুভূতি দিয়ে 
সংসারের সময় ব্যয় করে শুধু দেখেই গেলাম।

তোমার দু'কূল ছাপানো হাসি,,,হৈমন্তী গোধূলিতে খেলে বেড়াচ্ছিল নাতি দৈর্ঘ্য কুন্তল রাশি,, আধখোলা ভরাট বুক,,,
সুগভীর নাভি সহ নির্মেদ পেট।
আর কি দেখলাম জানো,,,তোমার মায়াময় ঘোর লাগা চোখ দুটো,,,তোমার হাসিতে ঝরে পড়ছিল সুগঠিত দন্ত যুগলের সারি।
আর কি দেখলাম না তাই বলো!দেখলাম সুক্ষ কোমর,,,সুডোল পশ্চাৎপট!

এ আমি শুধু দেখেই গেলাম,,,কারণ আমি তো পুরুষ,,,এরকম করে কোন মেয়ে তোমাকে দেখে না,,,দেখবেও না। 
আর এরকম করে কোন পুরুষও তোমাকে দেখে না,,,কারণ আমি কবি বলেই তোমাকে নিঁখুত চিত্রায়নে দেখলাম-কোজাগরী।

মাত্র ক্ষণিকের দেখা,,,কিন্তু আমার মাথায়  কোন অভিসন্ধি ছিল না,,,ভালো লাগছিল তাই,,,দেখছিলাম।তোমাকে আমার বিছানা-সঙ্গী করার কথা একবারও ভাবিনি,,,তাহলে কেন তোমাকে এমন করে দেখছিলাম!জানি না।

তারপর তুমি চলে গেলে,,,কোথায়!জানি না।
জানার আগ্রহ রাখি নি।
তুমি বিশ্বাস করো কোজাগরী,,,এ দেখায় আমার কোন লোভ ছিল না ,,,লালসা ছিল না ,,,ছিল শুধু অপার সৌন্দর্য্য মুগ্ধ নিষ্পাপ আত্মসমর্পণ।

তুমি আমাকে দেখোনি,,,আমি এক কোনে
চুপচাপ বসে ছিলাম ঠিক নিশ্চল বকের মতো।কিন্তু আমি শিকারি ছিলাম না।
তোমার সাথে আমার কোন পরিচয় নেই,,,

তোমার জন্য আমার এ প্রেমার্ঘ্য নিবেদন,,,এ পৃথিবীর কেউ জানল না,,,আর জানবেও না,,,এমনকি তুমিও না।

তুমি যেখানেই থাক,,,ভালো থাকো,,,আমার প্রেমিক হৃদয়ের সিক্ত ক্ষরণ লিখে রাখলাম কোজাগরী,,, আমার কবিতার অক্ষরে-অক্ষরে তোমার মূর্ত্য প্রতিমূর্তির স্মরণে। 

(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত)

        (৪)
সভ্যতার পিলসুজ
মুসাফির গৌতম      

কেউ করে চাষবাস 
কেউ কাটে মাটি,
কারো বা উ-ঠোন খানি
ঝকঝকে পরিপাটি।

সাঁওতাল রমণীর 
যাদু ভরা হাতে,
ফুল ফল লতাপাতা 
আঁকে দেখি রাতে।

বিছায়ে তা-লের চটি
বসে নানা জনে,
রাইমণি বাহামণি
মাতে সুরে গানে।

সারাদিন হাড়ভাঙা 
শ্রম দেয় ক্ষেতে,
নারী আর পুরুষেতে
একসাথে মেতে।

ঠিক যেন কুঁদে গড়া 
শরীরের ছাঁচে,
অপরূপ শোভা নিয়ে 
নাচে আর বাঁচে।

আধ ফোটা চাল সেদ্ধ 
সজিনার শাকে,
সেরে নেয় প্রাতঃরাশ 
বিরতির ফাঁকে।

উল্কিতে ভরা বুক 
কিম্বা গলা, 
কপালেও টিপ আঁকা 
হাতের পলা।

প্রেম আর মধু রসে 
কতো মাখা-মাখি,
ওরা যেন সাত সুরে
বাঁধা সাকি বাকি।

এভাবেই নিশিদিন 
চলে হেসে খেলে,
সভ্যতার বিষবাষ্প 
দেখা নাহি মিলে।

(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত)

         (৫)
মৌলবাদী জিঘাংসা 
মুসাফির গৌতম              

জ্বলছে আগুন,,,দাউদাউ করে 
লেলিহান শিখা গিলছে আকাশ 
আজ আর রক্ষে নেই-মার মার উঠেছে রব; কে কোথায় যাবে তার কোন ঠিক নেই।

লাঠির ঘায়ে কেউ বা মূর্ছা যায়,,,কেউ বা হারায় প্রাণ,,,নারী ইজ্জত ঢাকে আঁচলে 
তবু ইজ্জত খোয়া যায়-নারকীয় তাণ্ডবে।

অবলা শিশু কাঁদছে অঝোরে,,,অবলা পশু 
তারও মৃত্যু পরোয়ানা কেড়ে নেয় জ্যান্ত শরীর,,,আর কোনটা বা প্রকাশ্যে চুরি হয়ে যায়-গুপ্ত অন্ধকারে!

বধির শাসকের ঘুম ভাঙে বহু দেরী করে,,,ততক্ষণে "তিনকড়ি কর্তার" সাধের সংসার জ্বলে পুড়ে খাক!
নির্বিকার প্রশাসন,,,দেখেও নিশ্চুপ থাকে ঠায় দাঁড়িয়ে!

তাহলে,,, এরাই বা কম কিসে মদতদাতা হিসেবে ?

অবশেষে বদলির আদেশ আসে,,,উপর মহলের-কুশলী(!)সরকার বলে দোষীরা শাস্তি পাবে।
সে কবে ?
একদল মার খায়,,,একদল মারে আর একদল প্রতিবাদ করে-রাজপথে।

আর বহু দলীয় গণতন্ত্রে কাদা ছোড়াছুড়ি করে শাসক বনাম বিরোধী দল!
এখানেও খোঁজে ভোটের রসদ!
হায় মানবতা!কি দুর্দিন এসেছে আজ পৃথিবীতে!

ইতিহাস বহু প্রমাণ রেখে যায়,,,প্রকৃত দোষীদের শাস্তির বদলে এম এ লে-এম করে 
মসনদে পাঠায় শাসক।
এটাই ইতিহাসের চরম নিদর্শন,,,আর যে যায় সে চিরকালের মতো চলে যায়,,,
সে কিন্তু ফেরে না কখনো।

(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত)

        (৬)
তুষ্টি লাভ
মুসাফির গৌতম।
             

রাজ নীতিটা বেশ জমেছে ,তোষণ ভরা খামে।
হাট বাজারে বিকোয় দেদার,
অতি সস্তা দামে।
গদির জন্য চলছে হাঁটা,
সরিয়ে দিয়ে পথের কাঁটা।
এই না দেখে সাতসকালে,কপাল ভিজে ঘামে!
(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত)

ডাঃ সুভাষ চন্দ্র সরকারের কবিতা--

ডাঃ সুভাষ চন্দ্র সরকারের কবিতা--

*সুরভী দোলা দেয়*
-----------------------------

শাওন রাতে সিক্ত সমীরণে
কেতকী কদম বকুল দোলনচাঁপা 
ভরিয়ে তোলে লোভী মন 
মধু যামিনী জাগরণ পিয়াসে
উন্মুক্ত বাতায়নে ঘাঘরা চলিতে 
নবরুপে নবসাজে লাজুক মনে 
প্রিয় মিলনে ব্যাকুল হৃদয়ে 
পুষ্প সুরভী দোলা দেয়।।


*যদি পারো*
-------------------

তুমি আছো আজ বহুদূরে 
অতিমারী দিয়েছে মোর নির্বাসন 
জানিনা হবেকি দেখা আর 
যদি পারো উড়ে এসো 
ক্ষনিকের তরে ছুঁয়ে যেও
যদি পারো মোর সমাধির 
পরে ফুল দিয়ে যেও 
লিখে যেও তোমার নাম।।

Friday, 19 November 2021

রূপালী মুখোপাধ্যায় দুটি কবিতা--


রূপালী মুখোপাধ্যায় দুটি কবিতা--
খুকুরানী

আমার খুকু জেদ ধরেছে 
বাঁধবে সে যে চুল 
চুল নেই তো বাঁধবে কি টা 
বাঁধায় হুলুস্থূল।
ঠাম্মা তখন গামছা নিয়ে 
বেঁধে দিলো খোঁপা
খোপার মধ্যে  গুঁজে দিলো 
বেলী ফুলের থোকা।
খোঁপা বেঁধে খুকু আমার 
নাচে তা ধিন ধিন 
দেখলে তাকে যায় যে বোঝা 
আজকে খুশির দিন।
নাচতে নাচতে খুকু গেলো 
প্রজাপতির কাছে 
বন্ধুজনের আনন্দেতে 
সেও খুশিতে নাচে।
দুজন মিলে নাচতে থাকে
পরে গলায় মালা  
স্নান খাওয়ার পাঠ নেইকো
মায়ের যতো জ্বালা।

খুকুরানী

ভোরের বেলা সূর্য্যমামা 
যেই দিয়েছে উঁকি 
তুরুক করে বিছানা ছেড়ে 
পালায় আমার খুকি ।
জানলা দিয়ে চুপিসারে 
সূর্য্যমামা ডাকে 
খুকি আমার ঠিক দেখেছে 
একটুখানি ফাঁকে ।
সূর্যমুখির সাথে খুকি 
কাল দিয়েছে আড়ি 
ওকেই ভালবাসে বেশী 
মুখ করেছে ভারী।
সূর্য্য মামা বোঝায় কতো 
দুজন আমার সই
তোদের ছড়া কেমন করে 
আমি ভালো রই ?
সূর্যমুখির সাথে তুই 
করিস নাকো আড়ি 
দেবো আমি দুপুর বেলায় 
পশ্চিমেতে পাড়ি ।

ভুত নয়--অঞ্জলি চক্রবর্তী

ভুত নয়
অঞ্জলি চক্রবর্তী 
                                 
          তিন দিন তিন রাত
         খালি পায়ে হেঁটে যা 
         মাছ নয় মাংস নয়
        ডাল রুটি সেঁটে যা ।

        একখানা কালো ছাতা
           হাতে নিস যত্নে
        কোথা যাবি কেন যাবি
              কেউ যেন না জানে ।

          মস মস্ খস্ খস্
          পাতাদের শব্দ
        ও সব কিচ্ছু না রে
          মন করে জব্দ ।

        ছম্ ছম্ করে গা?
        ভয় কি রে পেয়েছিস?
         শাঁকচুন্নির ছানা
         ওকেই কি দেখেছিস্

           ভয় নেই তোর পাশে
             আমি আছি পাহারায়
          ভুতদের ছায়া ওরা
              আসলে ঠিক ভুত নয় ।
                   -----‐----------

স্মৃতি শেখর মিত্র--অবসাদ


          স্মৃতি শেখর মিত্র

                অবসাদ

গভীর এক হাহাকার ছুঁয়ে আছে
  হৃদয় জুড়ে। কি যেন হারিয়ে গেছে
     চলে গেছে চিরতরে বহুদূরে।
       আজ আছে কাল নেই
          এ কেমন খেলা বিস্ময়ে 
            হতবাক হয়ে যাই।
              মানুষকে মানুষই ভাবায়
                কষ্ট দেয় চিরকাল।
                  যদি পারো প্রভু 
                    ক্ষমা করে দিও
                      মুক্তি দিও ব্যথিত 
                         হৃদয়ের এ
                        চরম অবসাদ থেকে।

Thursday, 18 November 2021

হে সময় --গৌরী মৈত্র


হে সময় 

-------------

গৌরী মৈত্র 


তুমি যেন আমার ভিতরে,মাঝারি শ্রেণির 

এক গেস্ট হাউসে বাস করো,

যার জানলায় মৃদু হাওয়া, দরজায় রঙিন পর্দা, 

কখনো ঝড় বইছে, কখনো আবার একরোখা বৃষ্টি 

ধাক্কা দিয়ে যায়,ভিঁজতে থাকে দরজা ;

এই ঘরে গোপন বাক্সে রাখা শ্বাস প্রশ্বাস 

পাওনা বাবদ সব তুমি নিয়ে যাও  --

এক সময়ে নদীটি ক্ষীণ হয়ে আসে, জল ছোট হয়ে যায় ;

তুমি বুঝি সেই নদী? সেই জল? তুমি? 

এই উথাল পাথাল, এ তীব্রতা কি তোমার? 

তাই কি ঘরের এই নিরঙ্কুশ আধিপত্য? 

হে সময়, তুমি তো দূরন্ত সওয়ার! 

তবে তুমি কেন থেমে গেলে? 

দুুলকি চালে ধীর কেন হয় তোমার ঘোড়া? 

দেখো,আলোর উপর থাবা বসায় শকুন, 

খুঁটে খুঁটে খায় সে স্বপ্নের অমরত্ব, 

জানি, তুমি উড়িয়ে গুড়িয়ে দিতে পারো,

মুছে দিতে পারো প্রেক্ষাপট থেকে

যত ভুলভাল রং,ভাঙাচোরা ছবি --

এবার তবে ছোটাও ঘোড়া -

উড়িয়ে তাড়িয়ে নিয়ে যাক চোরাবালি, 

পাদানি থেকে সরে যাক সব ধ্বস!

১৩/৫/২০২০

রোদ হয়ে আছো--তীর্থঙ্কর মৈত্র


রোদ হয়ে আছো

-------------------------

তীর্থঙ্কর মৈত্র

   

কচার বেড়ার গায়ে কার্তিকের বিকেলের 

রোদ এসে পড়ে আছে, বেড়ে ওঠা লাল শাক,

খেতের মাটিতে তেজী পাতা মেলে বেগুনের 

চারা, বাঁধাকপি, পালং, শালিকের সুখী ডাক ! 

তুমি তার মাঝে মিশে---, ঘানীঘর নেই তবু

তার চিহ্ন ঢেকে আছে , ঝ'রে কাঠ বাদামের

লাল পাতা। সারাদিন ঘুরে চলা চোখ ঢাকা

বলদেরা নেই আর এ-ই  পড়ন্ত রোদের  

রঙে মিলেমিশে  তার গতি পেলো চাকা। 

শতাব্দীর ইতিহাসে;সেই সব বলদের   

নিরীহ ঠিকানা আজ। তুমি তার সাথে ছিলে ;

আজ কচার বেড়ায়, রোদ হয়ে আছো মিশে---      

২৫/১০/২০২১

অনন্ত কথা--তাপসকিরণ রায়




অনন্ত কথা 

তাপসকিরণ রায় 


আগুনে ঝাঁপ দিয়ে কি কবিতা লেখা যায় ? 

অথবা কিছু স্ফুলিঙ্গ তোমার নাকে চোখে-মুখে

গনগনে আগুনে তখন তোমার শরীর পুড়ে যাচ্ছে, লালে লাল, সেই শরীর আস্তরণ।


অন্য এক কবি তখন কবিতা লিখছে… 

অগ্নিকুন্ডে দাঁড়িয়ে কবি তার কবিতা লিখতে পারে-- 

ওই যে পুড়ে যাচ্ছে কবি, 

যন্ত্রণায় কাতরে  উঠছে সে, 

তবু তার হাতে একটা কলম ও কাগজ তুলে দিলে কি একটা আধপোড়া কবিতা লেখা হয়ে যাবে! ওই যে কবিতার মাথা ঝলসে যাচ্ছে- 

সে কবিতা ক্রমশ তার মাটির স্পর্স হারিয়েছে l 

হায়, কোথায় সে কবি ? সে আর নেই,

তার কবিতা আর নেই।


এবার শুধু কল্পনা পড়ে আছে, 

কিছু শ্বাস আশপাশ ঘিরে আছে-- 

পুড়ে যাওয়া কবিতা নিশ্চয়ই , 

পুড়ে যাওয়া কবির শূন্যতার মাঝে থেকে গেছে,

আর বাকিটুকু আকাশ,

নীলিমাময় মহাকাশ জুড়ে থাকে, 

সে কবি বুঝি তার গভীরে ছায়া হয়ে জেগে থাকে তাকে নিয়ে আগামীর কবিতা লেখা হবে--

আগামীর কবিরা লিখে যাবে তাদের অনন্ত কবিতাকথা।

Wednesday, 17 November 2021

না থাকলেও চলবে--শমিত কর্মকার

না থাকলেও চলবে
------------------------------
শমিত কর্মকার

সাধারণ মানুষের ভিরে মিশে থেকে কি লাভ? 
তোমার পরিচয় সেই সাধারণ। 
কিউ কি তোমাকে চিনে নিতে পারবে। 
কখন আর কেউ খোঁজে না, চিনিয়ে দিতে হয়। 
সময়ের সমাপ্তি ঘটে গেছে অনেক আগে! 
তবুও মানুষ ভাবে চিনে নেবে। 
কিছু না করেও মানুষের খুব কাছে আসা যায়। 
শুধু চোখ কান খুলে প্রচার করে যাও। 
পায়সার তেমন প্রয়োজন এখন আর হয় না। 
শুধু অভ্যাস করে নিজের ইচ্ছা মতো যা কিছু মনে আসে সোস্যাল মিডিয়ায় দিয়ে দাও। 
ব্যাস, তোমার প্রচার শুরু, দিনকে দিন শুধুই বারতে থাকবে। 
অনেক কিছু জানা মানুষ গুলোকে এখন আর কেউ খোঁজে না! 
বিনা কষ্টেই অতি সহজেই যখন পাওয়া যায়। 
নিজের ঢাক এখন নিজে না বাজালে কে শুনবে গিয়ে গিয়ে।
আমরা এখন আকারে মানুষের মতো, স্বভাবে সেই চতুসপদ প্রানী। 
         ************

বহ্নি শিখা (ঊষা দত্ত)র দুটি কবিতা--

বহ্নি শিখা (ঊষা দত্ত)র দুটি কবিতা--

ও-রে, করলি কি যে 

ও-রে ও-রে করলি কি যে 
শ্যামলা রঙা পীত বরনী 
শেষে কিনা তারে করলি বিয়ে!

যতোই বলো লক্ষী আমার।
উদোম বেড়া লক্ষীছাড়া
অভাব জরা চালচুলাহীন এক ঘরে। 

চরণ চপল ঠোঁটে চপল 
চুল খাটো এক মেয়ে! 
শেষে কিনা তারে  তুললি নেয়ে!

যতোই বলো সে যে আমার। 
ল্যাংড়া পায়ের অন্ধ চোখের 
সার্বক্ষণিক ভরের জ্যোতি ধরে, 


ও-রে ও-রে করলি কি যে 
শেষে কিনা খাটো-বাটো
চ্যাপ্টা নাকি চোখ বোজা এক মেয়ে!

যতোই বলো সে যে আমার। 
হৃদয় মানিক পড়শি বিজ্ঞান
দুখের সাথী খুবই ধৈর্য ধরে, 

ও-রে ও-রে করলি কি যে
শেষে কিনা পিংলাচুলা 
থেবড়ো গড়ন ট্যারা একটা মেয়ে! 

যতোই বলো সে যে আমার।
মনের বাহন বাচাল জীবন 
অদৃশ্য-মন-বর্ণমালা ঠিক পড়ে।

ভালোই হলো,ভালোই হলো। 

হাড় হা-ভাতে এমন মেয়ে 
খাক না দু'টো  গতর খেটে 
সোনার বাঁকা আংটি ছেলের ঘরে। 
-----------

 কি দেবো তোমায়?


হীরা পান্না? চুনী জহরত কি দেবো তোমায়?

দামী উপহারে সাজাবো সামর্থ্য কোথায়? 

ভরা পুকুরের প্রশস্ত ললাটে কমলার কোয়া রেখেছি,

স্পর্শ করে যায় বাতাসে-সাগরে ঢেউ তুলে, 

বুঝো কি বুঝো না,আকাশের রঙ তখন গোলাপি। 

তীর ছোঁয়া ঢেউয়ের শব্দ ধরে রাখি গোপনে, 

সেটুকুই আমার পাথেয় হয়েও যায়- জানতেই পারো না। 

দামি কিছু নেই বলে গাছের কোটরে জীবন, 

তবুও অলক্ষে ছুঁয়ে যায় কপোল -এক বিন্দু আবির ,  

অনুভব আসে কি আসে না অজানাই থেকে যায়,

জিজ্ঞেস করা হয় না কোনোদিন-কি আর দেবো তোমায়। 

------

মাহেন্দ্রক্ষণ--মনীষা কর বাগচী







মাহেন্দ্রক্ষণ
মনীষা কর বাগচী

কাল আর আজকের মধ্যে এক সমুদ্র দূরত্ব
কাল ছিল আলো ঝলমল, আজ জন্মের অন্ধকার...

যে ছিল প্রাণ জুড়ে আজ সে হারিয়েছে অজানায়
মায়ের আঁচল জড়িয়ে থাকা ছেলেটি নিমেষে ভুলে গেছে ছায়া ...

সুন্দর সেই রূপোলী সকাল, সোনালী দুপুর, চাঁদনী রাত থমকে গেছে
ঝরে গেছে হিজল, রঙ হারিয়েছে স্থলপদ্মরা, উদাস মায়ের চোখ...

পথের দিকে চোখ বিছিয়ে প্রেম পিয়াসী মা
সবকিছুর পরিবর্তে  হারিয়ে পাওয়া সুখটুকুর প্রতিক্ষা

সারা পৃথিবীর ভালোবাসা জড়ো করে রেখেছে সে
উজাড় করে ঢেলে দেবে সবটুকু, অবশ্যই আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।।

প্রেরণা বড়ালের দুটি কবিতা--

প্রেরণা বড়ালের দুটি কবিতা --
নারী     

কবির লেখায় নারী না থাকলে 
যেমন তার লেখা অসম্পূর্ণ,
তেমন নারী ছাড়া কোন
গল্প ই হয় না সম্পূর্ণ ।
নারী হাস্যময়ী লাস্যময়ী-
নারী ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ হয়। 
আবার নারী জীবনকে অসহ্য-
করে তোলে তেমনই শোনাযায়।
ব্যঙ্গাত্মক রচনায় 
জোক আর চুটকুলায়
নারীর স্থান প্রথম সারিতে।
আবার নারীকে দেবী রূপে 
সবাই চায় তারে প্রণমীতে। 
সে হীন,লাঞ্ছিত,নির্যাতিত
সমাজের নিচু তলায় ব্যবহৃত।
সেথায় পুরুষ যায়
অন্ধকারে মুখ লুকায়।
আলোতে গর্ব করে-
তাদের ই উপহাস করে।
বিচিত্র নারী এই
সব সয় সততই ।
বান্ধবী,স্ত্রী,ভগিনী,জননী,কন্যা
কিম্বা হোক সে বারাঙ্গনা 
যথাযোগ্য স্থানে নিজের কর্ম 
করিছে বুঝিয়া  সকলের মর্ম।

শীতের এপিঠ ওপিঠ

আহা শীত, উহু শীত 
শুষ্ক শীত, রুক্ষ শীত 
ফাটানো শীত, কাঁপানো শীত 
জমানো শীত, থরথরনো শীত 

আমেজ শীতের,  মজা ঘুমের 
জমিয়ে খাবার খায় পেটুরাম। 
মনের সুখে গান, করে মনোরাম। 
খেলে খেলোয়ারে সোনা রোদ্দুরে।

সে আর আমি--শিখা মালিক

সে আর আমি
শিখা মালিক

ও আমার সাথে থাকে সবসময়ই থাকে, চলতে বসতে ঘুমাতে কখনও পিছু ছাড়েনা।
মিল খুবই আমার সাথে,কাঁদি বেশী তবে লুকিয়ে  ও তখন কাঁদে আমার  থেকে কিছু  লুকাতে পারে না ,আমিও পারিনা।ব্যস্ততার মাঝে যখনই তাকাই দুজনে চোখাচোখি,
কাউকে না বলা কথা শুধু ওর সাথেই বলা ।
কষ্টের  আতিশয্যে যখনই থাকি শুয়ে কপট দৃষ্টি হানে,
বলে উঠে দাঁড়াও চোখের জল মুছে।
আমরা হারতে আসিনি, দুঃখের  সাহারা যতই করুক ইশারা হেঁটে যাই বর্ণময় পথ।
তার সাথে ডুব দিই  গহীন আঁধারে  অবলীলায় শুধু  তারই সাথে।
 কায়া  আর আমি।

জয়া গোস্বামীর কবিতা--

জয়া গোস্বামীর কবিতা--

মিঠে রোদের খেলা

শরতের আকাশে সেদিন ছিল নীল মেঘের খেলা
হৈমন্তীকার সাথে ছিল মিঠি মিঠি রোদের মেলা!!

অভিমান ভুলেছে শিশির-সিক্ত হয়ে ডানা মেলেছে
গাছের পাতার শ্রীহীন রূপ  নতুন করে সেজে উঠেছে!! 

নতুন ভোরে নব ফুলে  গালিচা  কেমন রঙে ভরেছে
হিমেলের সকাল মিঠে রোদ্দুরে প্রাণ  সজাগ হয়েছে !! 

ঋতুরাজ এই ভাবে শুধুই নিজেকে পাল্টায় নব নব সাজে
কখনো রোদ বৃষ্টির খেলা খেলে আমাদের সাথে মনের ভাঁজে !! 

দীর্ঘ  পৌষের রাতে স্মৃতি শুধুই আসে মনের সুপ্ত ঘরে
কেবল কাঁদে  গভীর রাতে একাকীত্বের যন্ত্রণায় অনাদরে !! 

শীতের সকালে এক চিলতে রোদ টালির ফাঁকে উঁকি মারে
সব ভুলে যায় ঐদিন মিঠে রোদের পরশে মন হয় ফুরফুরে !! 

হিমেলকে বরণে  মন ছিল ব্যস্ত  সেদিনে  সকলের সকালে
প্রখর তাপে পুড়েছিলো যাদের অন্তর অভিমানে বিকেলে !! 

শীতে কবিতার পাতায় থাকবে  সবাই মুক্ত মনে মুখ গুঁজে 
লিখবে কখনও রং চড়িয়ে রোদকে নিয়ে কবিতার ডালি পাতায় সেজে!! 

কবিতা শীতের আমেজে  নতুন প্রভাতে পাতায় রাঙাবে ভালোবেসে
মন ভরবে সবার রোদের গন্ধ মাখা কবিতা হাতে নিয়ে আবেশে !! 

মনের মণিকোঠায় আজ রোদের  আদরের মাখামাখি
সূর্যের কিরণে হিমেলকে আজ  যত্নে কেবল আগলে রাখি।

"বলা হয়নি"

নতুন ভোরে ডাক দিয়েছো সকালে রামধনু রং মেখে --
ভোরের শিশির ভিজিয়েছে এসে ঐ রাঙা মুখে--- 

ওগো কে গাও প্রভাতে আজ ভাটিয়ালী সুরে---
মন আজ সুখের পরশে সিক্ত হয়েছে একটু আদরে--- 

ভোরের বলাকা যাচ্ছে উড়ে মুক্তির খোঁজ আনতে---
ভোরের বাতাস বইছে আজ আপন খুশিতে---- 

তোমার নাও বাঁধা আছে আজ কোন ঘাটেতে?
আমি আজ যাবো তোমার সাথে ছদ্মবেশে তে--- 

দেখবো আজ তোমার সাথে প্রেমের সূর্যের আলোকে--'
রাঙা প্রভাত আজ প্রথম রঙ ছড়াবে বিশ্বলোকে---- 

অন্তর আজ উদ্ভাসিত তোমাকে ফিরে পেয়ে---'
ভুলেছি আজ সকল ব্যথা তোমাকে হৃদয়ে নিয়ে---‐ 

চলো যাই আবার নতুন ভোরে পথের সন্ধানে----
যেখানে কপোত কপোতী নিভৃতে সুর ভাঁজে মিলনে---- 

হেমন্তের কুয়াশা  প্রভাতে প্রেমে  সিক্ত করে  পাছে----
সন্ধান  পেয়েছি  নতুন করে বাঁচার অপরাজিতার কাছে---


ভাবছি  বসে জীবনের সেই ফেলে আসা বিবর্ণ  অতীত ---
রাঙাতে পারিনি  শৈশবে  অক্ষমতায় হয়েছি ভীত ---' 

ক্ষয়ে যাওয়া সমস্ত বিকেল জুড়ে আছো আজও অন্তরে---
তুমি ছিলে শিহরণে অতল তৃষ্ণায় নিবিড় অভিসারে--- 

আজকে আমি কবিতার পাতায় ছন্দের গান গাই ----
ভালোবাসি খুব যে তোমায়, বলা হয়নি আজ ও তাই----

""না বলা"


সেদিনের সেই বিকেলে তুমি আকাঙ্ক্ষিত আমার বৃষ্টি---
জলে ভেজা সবুজ ঘাসে মনে পড়ে অপরূপ  তোমার কৃষ্টি--- 

হৃদয়ের নীরব বিরহের আকুল  তোমার চাহনি---
ধুয়াশার মত ধূসর সন্ধ্যায় নয়ন তারার মোহিনী --- 

চোখের কাজল ধোয়া জলে বিমুগ্ধ বেদনাবিধুর ---
আমিত্বকে নাড়া দিয়ে যায় তবুও লাগে চিরমধুর--- 

সব আলো নিভে গেল এক দমকা ঝড়ে সেদিনে---
কে ডাকলো তোমাকে পিছন থেকে ইশারায় জানিনে-- 

অবচেতন মনে একা হেঁটে যাও আজ কোন পথ ধরে ----
জানালার কাঁচে দেখি তোমার অবয়ব যে কত দূরে--- 

ভেজা বাতাসে তুমি যেন সিক্ত বনফুলের গন্ধ---- 
বসন্তকে হারিয়ে অজান্তেই তুমি আজও আমার বসন্তে অন্ধ---- 

মলিন অসমাপ্ত বিকেলে আজও পথচেয়ে বেদনায়---
তোমার শিহরণে আজও আমার  হৃদয় চঞ্চলতায়----


তৃষ্ণায় পা বাড়িয়েছো একাকীত্বের নির্জন ইশারায়----
বসন্তের লগ্ন বয়ে যায় ঐদিন বেদনার অশ্রুধারায়--- 

কলঙ্কিত গোপন প্রেম  ভেসেছে অনাহুত বৃষ্টির ফোঁটায়----
বেহিসেবী ভালোবাসা হিসেব কষে  কি ভালোবাসা যায়?? 

কখনও আসবে না ভাবলে  শুধুই চোখের জলের ভাসা----
অন্তত প্রেম বন্দী হবে সেদিন কাব্য গ্রন্থে পাতায় বলবে "না বলা" ভালোবাসা-----

কৌশিক গাঙ্গুলীর গুচ্ছকবিতা--

কৌশিক গাঙ্গুলীর গুচ্ছকবিতা--

মানুষ

আমার স্মৃতির উঠান ছাড়িয়ে
তীব্র কোলাহল এসে পড়ে নিঃসঙ্গ জীবনে,
কোথাও কি আবার অধর্ম ঘটে গেছে?
বিস্তীর্ণ আকাশ জুড়ে  আগুনের ছায়া, মৃত্যুর গন্ধ, অমানবিকতার চিহ্ন কাছে আসছে,
ভয় পাচ্ছি, রাগ হচ্ছে, যন্ত্রণায় স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছি।
ভালোবাসা কি এতই কমদামি?
বিশ্বাস কি এতই ঠুনকো নাকি?
এটা কি কোন পরিকল্পিত শয়তানি?
ধর্মের রাজনীতিতে দুর্বলের শেষ ঘন্টা আর গৃহত্যাগের ইশারা।
বাসভূমি পুড়ছে ঘর-দুয়ার তছনছ,
ইজ্জত নিয়ে খেলছে পিশাচেরা।
তবু ভালোবাসার গান শোনাতে হবে
ফেরাতে হবে বিশ্বাসের অটুট বন্ধন।
 ঘৃণা দিয়ে ধার্মিক সাজা যায় না
রক্ত দিয়ে উপরওয়ালা কে  খুশি করা যায় না।
হে দয়াময়, হে প্রভু, মানুষকে আবার সত্যি কারের "মানুষ" করে তোলো।

শব্দ মালা

 এই ঝঞ্ঝায় এই অবেলায়
 আত্মঘাতী হামলায় বিধ্বস্ত আমি
 কোথা থেকে ভেসে আসছে করুন বেহাগ
 চোখের জলের সেতুর মাঝে
 চন্দ্র-সূর্য কে সাক্ষী রেখে
লিখছি এই জীবন কথা,
 হৃদয় ভেদ করে আসাএই শব্দমালা
 যদি কারুর কাছে পৌঁছায়
 সে যেন এটাকে প্রলাপ ভেবে দূরে সরায় না,
 এতে যে মর্ম কথার মালা সাজিয়েছি
 তাতে আছে বেদনার ইতিহাস
 যা মুছে ফেলা যাবে না।

'চূর্ণ কবিতাগুচ্ছ '  
"কৌশিক গাঙ্গুলির কবিতা "  
(১)    হাজারজনের মধ্যে বসে একা আমি অক্ষর খুঁজে চলি চরিত্রের সন্ধানে , যেন নাটক , এই মুক্তমন্চ্ঞে ঈশ্বর ,আমি আর শয়তান অভিনয় করছি ।  
(২)   অন্ধকারে হারিয়েছি পথ   এ আমার পান্হনিবাসের দরজা নয় , চলেছি নরকের পথ ধরে অনন্ত গন্তব্যে .....   
(৩)   তাপ উত্তাপ বেড়ে যায় সমাজের , দিশেহারা জীবন বাঁচার উপায় খোঁজে , সবকিছু যেন ভয়ের আড়ালে থাকে -   
(৪)   আমি শুয়ে থাকি , শুয়ে থাকে সময় , বৃশ্চিক রাশির মতন কামড়ায় বিপদসংকেত , দুঃস্বপ্নরা বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে ।

"নাটুকে প্রেম" 

ভালোবাসার বিকল্প নাটুকে প্রেম 
জীবনের জলসায় বিচিত্র কাণ্ডকারখানা,
 পাবো পাবো করে আশায় থাকে যারা 
পেয়ে গেলেই চোরাবালিতে হারিয়ে যায় 
মদ আর মেয়েছেলে নিয়ে ব্যস্ত থাকে 
সেইসব মানুষের আজ সামাজিক নায়ক।
আজকাল নিজেকে নিয়ে ছেলেখেলা করি 
আজকাল জালি মানুষদের নিয়ে বাউল গান শুনতে যাই তেপান্তরের মাঠে 
সহজ-সরলেরা হেরে হেরে গো ভূত 
তাদের মাথার উপর নাচে দুর্ভাগ্যের ছায়া। 
এই জীবনে বৃথাই চলাফেরা তবু
ক্লাসিক গানের জলসায় কেঁদে চলে 
অবিরাম ভাঁড়েরা,কৌতুক শিল্পীরা
কে আসবি আয় নিজেদের নিয়ে মাতি 
শক্তিশালী কে সেলাম,দুর্বলকে গোল্লায় পাঠাই
সব জায়গায় প্রহসন,মিথ্যার গড্ডালিকা।
দেখো রক্ত দিয়ে লেখা সময়ের দিনলিপি 
দেখো হেরে যাওয়া মানুষদেরও স্বপ্ন থাকে 
তবুও আমরা লোভের জন্য হিংস্র হই 
তবুও আমরা মনুষত্ব বিসর্জন দিয়েই স্বার্থের জন্য,
নিজেদের মাটিকেই ভুলে যাই। 
নাটুকে জীবনে সবই যেন চ্যাংড়ামি,
ভাঁড়ামোতে পাওয়া যাবে চলমান বাঁদরামো,
তবুও তো বেঁচে থাকি মিছিমিছি 
জীবনের জলসায় বিচিত্র কাণ্ডকারখানা।

গোপনকথা--ইন্দ্রাণী ব্যানার্জী

গোপন কথা
ইন্দ্রাণী ব্যানার্জী

নদীর সাথে বন্ধু করে
অনেক কথা জেনেছি
নদী নারী আমিও নারী
মিল হয়েছে ভীষণ ভারি।

আমার মতোই ভালোবেসে
নদী চলে নিরুদ্দেশে
ভাঙে গড়ে দুদিক খানা
যেমন আমার হৃদয়খানা।

সত্যি কথা কানে কানে
বলেছে নদী উদাসপ্রাণে
এত কষ্ট দেখেও সাগর
আসেনা আর নদীর পানে।

কী বুঝলে এবার বলো
ভালোবাসায় কেই বা বড়?
আমিও নারী নদীও নারী
নদীকে বড়ো করেছি।

বীরেন্দ্র নাথ মন্ডলের দুটি কবিতা--

বীরেন্দ্র নাথ মন্ডলের দুটি কবিতা--

নতুন দিগন্ত


ভাবিলাম আমি মা পৃথিবী স্মরিলে  তুমি। 
অতি যত্নে কোলে নিলে তুলি। 
কালো মাটির পোশাকে চিরহরিৎ শ্যাওলায়। 
আমি ঘুমিয়ে গেলাম। 

নদীর পারে এক পাথরের উপর ।
আগে হয়নি এমন ঘুম সুন্দর। 
আমার উপর বর্ষিত হল। 
শ্বেতশুভ্র দূর তারার আলো। 
কিন্তু আমার কল্পনায়। 
ভাসে গতি আলোকময়। 
অনেক বিরাট বৃক্ষের  ডালপালায়। 

আমার এক সম্পূর্ণ নিজস্ব সাম্রাজ্যে। 
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণী যেন অমনই নিঃশ্বাসে। 
পাখিরা কলরব করে অন্ধকারে। 
রাত সারা আমি উঠি আর পড়ে যাই। 
যেন জলে ভাসি আর ডুবে যাই। 
এক প্রজ্বলিত  আলোক শিখা। 
নিয়ে যায় বারেবারে নতুন দিগন্তের দিশা। 

নতুন প্রভাতে অদৃশ্য হই শতশত বার। 
কিছু মঙ্গল কিছু শুভ হোক এই ইচ্ছার। 
পার হই দিকদিগন্ত মাঠ তেপান্তর। 
সবুজ বনানীর পৃথিবীর ভিতর ।।

31 অক্টোবর 2021।

সম্মোহন 

একবার এক শুভ্র বস্ত্রখণ্ডে প্রিয়সখি চিত্রা 
আঙ্কিলো রাধাকৃষ্ণের তিনটি পটচিত্র বিচিত্রা ।

প্রথম চিত্রে শ্রীকৃষ্ণ বাজায় বাঁশি অতি মোহময়। 
কলসি কাঁখে শ্রীরাধা জল আনিতে নীল যমুনায়। 

দ্বিতীয় চিত্রে রাধা কৃষ্ণ যুগল প্রেম আলিঙ্গনে আবদ্ধ। 
পান করে সৌন্দর্য সুধা  মুখমন্ডল যেন প্রস্ফুটিত পদ্ম। 

তৃতীয় চিত্রে শ্রীকৃষ্ণ ফুল তুলিতে থাকে। 
রাধারানীর দেখছেন তা চেয়ে অপলকে।


সম্মোহিত রাধারানী আচ্ছন্ন শ্রীকৃষ্ণের চিন্তায়। 
তাকায় নীল আকাশে শ্বেতশুভ্র মেঘ দেখতে পায়। 
শুভ্র মেঘের ভিতর শ্রীকৃষ্ণ যেন আছেন লুকায় ।।

4 নভেম্বর 2021।

বসে আছি স্বর্গপুরে--সন্ধ্যা রায়

বসে আছি স্বর্গপুরে

সন্ধ্যা রায়


ভেবেছিলাম দূরেই জমাবো পাড়ি।

আকাশ চুড়ে চাঁদের দেশে 

শীতলপাটি বিছানো থাকে,

আমায় নিয়েও গেল মেরুর দেশে,

অচিনপুরে গিয়ে দেখি, 

জীবন কাকা লাটাই নিয়ে,

বিনিপিসি দিবানিশি 

চলছে দেখো পানশি বেয়ে !

বরশি বেয়ে রামু ছোড়া 

বসে আছে আশ বেঁধে সে,

ইলশে যদি পরে ধরা।


তবে কেন এমনি হল ! 

এরা তো কেউ নেই সেই ধরাধামে

এটা তবে আমি কোথায় এলাম?

মানি মাম সবাই আমায় ছেড়ে কোথায় গেল?

কাঁদছি যখন অঝোর ধারে,

সুন্দরী এক নৌকা ভেড়ায় আমার পারে,

বলে সে, আয়, চলে আয়, 

পৌঁছে দেব চল দেখি তুই,

বসেই দেখি বসে আছি স্বর্গপুরে

সুমু বলে, কেমন আছো ?

চোখের পানে তাকিয়ে থাকি নির্নিমেষে।

বুঝতে পারি শক্ত হাতটা 

জড়িয়ে আছে শক্ত হাতে--

জল এলো না চক্ষে আমার,  

শুধু বিশ্বাসেতে মুদলো আঁখি,

ছেলের হাতটা ধরেই রাখি।

Tuesday, 16 November 2021

যদি হয় দেখা--মহুয়া ব্যানার্জী

যদি হয় দেখা
মহুয়া ব্যানার্জী

যদিও বা চলে যাওয়া হয়
 কুয়াশা জড়ানো গভীরতর পথে,
তবুও সময় জেনো স্থির 
কখনো কখনো ফেরার শপথে।
হয়ত পাবে না খুঁজে যে দিন গেছে বয়ে, 
অনিবার্য ভুলে দুরত্বের সাঁকো নড়বড়ে।
থাকবেনা সে অমোঘ টান আর
গোধূলি রাঙানো মন জুড়ে।
তবুও মুহুর্তেরা লুটোপুটি খায় শালবনে-
ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় প্রস্তরীভূত সে হৃদয়,
ফেরা হল না বলে হাহুতাশ হরিণীর চোখে,
 দীর্ঘশ্বাস ঝাউয়ের পাতায় পাতায় । 
দেখা হবে সে আশ্বাস জীর্ণ থেকে জীর্ণতর...
পড়ন্ত যৌবনবেলা ধূসর ক্যানভাস।
তবুও যদি দেখা হয় আবার 
হয়ত অন্তিম হবে  শ্বাস।

সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিকের কবিতা--

সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিকের কবিতা--

ছোঁক ছোঁক ছ্যাঁকায়

ছ্যাঁকা লেগেছে, ইস্!
গোদের ওপর বিষফোঁড়া !
বেলতলাতে যেতে ন্যাড়া
তবু একপায়েতেই খাড়া!
বুকের পাটার উচ্ছ্বাসে
হায়রে!কোথা হৃৎ-কম্প!
নাক-কানটা মুলেই বুঝি
ভালোবাসি লম্ফ-ঝম্ফ |
উঃ!উঃ!এই জ্বলুনির
জ্বালাটা বড়ই জুতসই !
মান-হুঁশের নাগাল পেতে
লাগবে তাই লম্বা মই |
মই!মই! কোথায় সেটা? 
খুঁজতে গিয়ে পাচ্ছি বাধা !
মনন-কক্ষে ক্যাম্প বসিয়ে
কারা যেন ছুঁড়ছে কাদা ?
কাদা মেখে কালো মুখে
ভালো-মন্দ যাচ্ছি ভুলে,
গোবর গনেশ এবার নাকি
নাম লেখাবে ভদ্র কূলে !
ওহো !সাত-পাঁচ ভেবেও
পালটি খাই ঘেমে নেয়ে,
কালঘামটা প্রতি পদেই
ব্যস্ত থাকে দিনটা জয়ে |
তুড়ি মেরে তুলকালামে
ঘামছি যেন রক্ত-দোষে!
লাগলে ছ্যাঁকা তারপরেতে
উদাস মনে থাকছি বসে |
রঙ্গ-নাট্যে ওস্তাদ-দলবল
মেতে থাকে নানা বাজিমাতে,
ওহো !লাগল নাকি ছ্যাঁকা!
জ্বালাটুকু সয়েই যাচ্ছে ধাতে |

বাঁচি-না-বাঁচি

বাঁচা অথবা না-বাঁচার মাঝখানে দোলাচলে
ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমানের সময় যায় থমকে...|
অথচ যা সম্ভব, তাতেই মেলে বাঁচার রসদ,
অথচ যা প্রাপ্য, পেলেই তা সুখের আস্বাদন,
জেনেবুঝেও কেন যে প্রাণের সাথে হয় আড়ি ?
অথচ বাঁচন-জুড়ে সাগরকে কেউ দিচ্ছে পাড়ি !
জীবন-মৃত্যুর দোল-দোলায় বিপন্নতা জয় করে
আজীবন আনন্দকেই করি ঘর-জামাই,
উচ্ছ্বাসে রাত্রিদিন বলবে উঠে উচ্চস্বরে,
‘কেয়াবাত !কেয়াবাত !কেয়াবাত !’
দুঃখ-দৈন্য-দশার জবর মরণ হলো এতদিনে
সুসময়ের অভিসারে |
জঘন্য জ্বালারা হাঁটাচলার ফাঁক-ফোকরে
কার্পেটের তলায় ধূলি হয়ে আছে শুয়ে ,
চেনা খুব খুব দায়!চেনার কর্নিয়ায় আচ্ছন্নতার
ছানি আসমানকে থাকে ছুঁয়ে!
বিতৃষ্ণায় তখন যমদূতেরা বিপন্ন জীবের পাশে
মহাকোলাহলে বুঝি গাইছে ক্যারোল—
ওরা মরণের জয়ধ্বনি তারস্বরে তুলে
জীবনের চায় পরাজয়,
তলানির প্রাক্-মুহুর্তে একবারটি বাঁচনের দিকে হেলে
না-বাঁচনের চাই যে তুমুল ক্ষয় |

রাজী-অরাজী

ভালবাসা ঝড়-জল-বর্ষায় বহু গঞ্জনা সয়ে
এখন নাকি রাজী অগস্ত্য-যাত্রায় !
এমন যাত্রার সম্ভাবনায় হৃদয়ের তোলপাড় কি
থামবে খুব সহজে ?
থামে না, থামে না—নিঃশ্বাসে জানি অক্সিজেনের
রসদও ক্রমহ্রাসমান !এতকাল পরে কুশীলবরা
নাম-না-জানা বোধের ভেতর থাকে দোদুল্যমান !
জরুরী তাপ-উত্তাপে ঔরসের দিলখোলা আয়োজন
তখন রয়েছে হিমাঙ্কের নীচে মেরুর দুনিয়ায়—
সেখানে ভালো লাগার ওম হারায় ইন্দ্রজাল,
সেখানে পেলব অন্তরের আকুতিও বড় মূল্যহীন |
ফিরে এসো ভালো মনটির ভালো বাসা
তুড়ি মেরে জঞ্জাল-ভ্রূকুটি,
নুয়ে পড়া জীবনের পাশে বেঁচে থাকার শপথ নিলে
দিনগুলোও হয় দ্যুতিময় পড়ন্ত মানসে |
ভালবাসা ঝড়-জল-বর্ষায় নানা গঞ্জনা সয়েও
এবার অরাজী অগস্ত্য-যাত্রায় !

হাঁ !

হাঁ!
হাঁ-য়ের গর্ভে জাত বিষ্ময়-মাছির ভনভন
ভনভন...ভনভন...!
নানা ঘটনাই আচমকা কদম কদম
বাড়ায় চরণ খুব চুপিসারে,
শব্দহীনতাও জাতক-জাতিকার পাড়ায়
অসম্ভবের মাদল বাজায় যখন-তখন |
আবার হাঁ!
গোগ্রাসে গিলতে থাকে সারাৎসার!
বাহবায় পারে বলতেও, ‘বাঃ!বাঃ!বাঃ!,
অথবা মারকাটারি সুন্দরের পেছন পেছন
কদাকার অক্রে-বক্রে ছড়ায় হাহাকার |
ঘোরের সুর্মা-টানা চোখ দুটি আকুলি-বিকুলি
দিলদরিয়ায় আরেক বন্য তুলকালাম!
অমন হাঁ-য়ের মধ্যিখানে তাবড় বিশ্বটার
বাস্তবতায় অবতরণ প্যাঁচ-পয়জারে,
হারানোর পূর্বক্ষণে সাবধানতাই ধরুক না হাত
তাজ্জবের ভূকম্পনে যেহেতু হারাই বারংবার |

শংকর ব্রহ্মর কবিতা গুচ্ছ--

শংকর ব্রহ্মর কবিতা গুচ্ছ--
---------------------------

১).
অস্তিত্ব
--------------------------

আমরা সবাই বদলে যাচ্ছি,
                          আধুনিক হবার আশাতে
রীতি রেওয়াজ হারিয়ে ফেলে
                    আদব কায়দা আর ভাষাতে। মা বাপ ডাক উঠেই গেছে,
                             মাম্মি, পাপার ঠেলাতে,
আমরা আধুনিক এক্সপোতে যাই
                             যাই না কোন মেলাতে।
কোথায় গেলো রাঙাকাকা
                       বৌঠান,ফুলদি মিষ্টি ডাক? 
মাসি,পিসি,কাকিমারা সব ,
                  আজ আন্টি হয়েই বেঁচে থাক।
বারো মাসে তেরো পার্বণ,
                   খুঁজতে হয় যে বইয়ের পাতায়
সে'সব সুখের দিনগুলো আজ
                      হারিয়ে গেছে উদাসীনতায়।
কোথায় আজ হারালো সেই 
                        হরেক রকম ব্যঞ্জন,ঝোল।
পিঠেপুলির কথা ভুলে সব
            আজ খাচ্ছি কেক, চাউমিন,রোল।
হারিয়ে গেছে সন্ধ্যাবাতি,
                    ঘোমটা,আঁচল আর শঙ্খসুর
বাঙালী এখন হারিয়ে গেছে
                         বাংলা থেকে অনেক দূর।
বাঙালি আজ কথা বলতে 
                        বাংলা ভাষায় লজ্জা পায়  
ব্যাঙ্গমা ব্যঙ্গমী আর ঠাকুরমার ঝুলি
                         জীবন থেকে নেয় বিদায়।
মা বাবার হয় না স্থান
                    আজ আমাদের পাশের রুমে
বাধ্য হয়ে থাকেন তারা
                       গিয়ে ওল্ড হোলিডে হোমে।     
ছোট পরিবার, সুখি পরিবার,
                                    শুনতে ভাল লাগে
সেই পরিবার গড়তে হয় যে
                                   মা বাবাকে ত্যাগে।
একান্নবর্তী পরিবার আজ
                                   ইতিহাসের পাতায়,
নিজের অস্তিত্ব ভুলে বাঙালী
                                      কি হারালী হায় ! 
 
২).
কবিতার মুখ
--------------------

তোমাকে আঁকা মোটেই সহজ নয়,
                        তবু আমি প্রতিদিন 
একটু একটু করে আঁকি,
                মানে আঁকার চেষ্টা করি।
পুরনো আঁকাগুলো
           অপছন্দ বলে,বাতিল করি।

আবার নতুন করে আঁকা শুরু করি,
এ'ভাবেই কেটে যায়
                   দিন মাস বছর আমার,
ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসে জীবন .....
অথচ তোমার ছবিটা আঁকা
                         শেষ হয়নি এখনও
যা আজও নিবিড় মমতায়
এঁকে চলেছি তোমাকে পরম আগ্রহে।

৩).
স্বপ্নকথা
---------------------

তোমায় নিয়ে ঘুরতে যাব পাহাড় থেকে নদী
                        তুমি, নিম রাজী হও যদি -
মুখ তুলে আর দেখব না যে পূর্ণিমার ওই চাঁদ
তোমায় ছাড়া সব দেখা আজ বাদ।
            ঘুম না এলে পরে, মুখটা তুলে ধরে
কপালে দিয়ে ছোট্ট একটা চুমো
                                    বলব,এবার ঘুমো।
তুমি রাজী হও যদি
তোমায় নিয়ে ঘুরতে যাব পাহাড় থেকে নদী,
              যদিও কোথাও যাইনি অদ্যাবধি।
তোমায় নিয়ে স্বপ্নে ভাসি
                       তোমায় ভেবে একলা হাসি
হাসতে হাসতে পরবো ফাঁসি
                                   তাতে কার বা কি?
আমি তোমায় স্বপ্নে শুধু কাছে টেনে নিই।

৪).
মনে পড়ে যায়
------------------

      কিছুই যায় না ভোলা,সবকিছু পড়ে যায় মনে
আজ যে থুড়থুড়ে বুড়ি একদিন সে-ও ছিল কনে।

যায় না কিছুই ভোলা,থেকে যায় সবকিছু মনে
    কেবল তোমার কথা মনে পড়ে শুধু ক্ষণে ক্ষণে।

কিছুই যায় না ভোলা, সবকিছু পড়ে যায় মনে
          প্রাসাদ নগরী এই, একদিন ঢাকা ছিল বনে।

যায় না কিছুই ভোলা,থেকে যায় সবকিছু মনে,
আপসোসে মরে জনগণে লুঠেরা বসিয়ে সিংহাসনে।

কিছুই যায় না ভোলা,সবকিছু পড়ে যায় মনে
লুম্পেন লুঠেরা সব এ'দেশে এসেছিল ভাগ্য অন্বেষণে।

যায় না কিছুই ভোলা,থেকে যায় সবকিছু মনে
      কেবল তোমার কথা মনে পড়ে যায় ক্ষণে ক্ষণে।

৫).
একা থাকা
--------------------

তোমার কাছে যাবার আগে,
                       একটি শব্দ আমায় থামায়
ভাবায় আমায়,তোমার বলা সেই কথাটা "মুরদ"আছে?
মুরদ মানে কি জানতে চাও,
                                   সামর্থ না পুরুষত্ব?

খুব ক্ষমতা নেই যে আমার,
জামার ফাঁকে আটকে থাকে নীল জোনাকি,জ্বলতে থাকে ধিকি ধিকি
জানি না জীবন কতটা আসল,কতটা ফাঁকি?
তোমার কাছে  যাবার আমার হয়নি সময়, 
এখনও একটু আছে বাকী,
নীল জোনাকি নিয়েই না হয় 
সে'টুকু সময় একা হয়েই মগ্ন থাকি?

৬).
জায়গা আছে
------------------------

খুব বেশী দুঃখ পেলে ছুটে আসিস আমার কাছে
তোর জন্য বুকের ভিতর জায়গা আছে,
মনে ভীষণ কষ্ট হলে
    ছুটে এসে বুকে আমার ঝাঁপিয়ে পড়িস,
ভালবাসা পড়লে ঝরে ধীরে ধীরে
মন খারাপের ভাবনাগুলো আমাকে দিস,
মান অভিমান যা আছে তোর
                       আমার কাছে জমা রাখিস
কেউ না চিনুক তুই তো আমায় ভাল চিনিস,
বুকের ভিতর প্রেম না থাকুক
      তোর জন্য অনেকখানি জায়গা আছে
ভীষণ রকম মন খারাপের দিনগুলোতে
                          চলে আসিস আমার কাছে।

-----------------------------------------------------

কৌস্তুভ দে সরকারের গুচ্ছকবিতা--

কৌস্তুভ দে সরকারের গুচ্ছকবিতা--

নিশ্চিত-অনিশ্চিত

চুমুর চেয়ে শক্তিশালী আরো কিছু থাকলে নিতে পারো।
নাও। নিয়ে নাও।
আর তো কিছুদিনের জন্য এই গ্রহে আছি।
জেগে আছি।
এখনো বিবর্ণ লতার ফাঁকে
খুঁজে পেতে পারো।
রোজ রাতে হিম পড়ে। ভিজে যাই।
সকালে আবার রোদে তরতাজা হয়ে উঠি।
আর কিছুদিন।
তারপর কোনো একদিন
তল্পিতল্পা সহ উড়ে যাবো 
ভিন দেশে। ভিন গ্রহে।
যেখানে আমার সাথে দেখা হয়ে যেতে পারে আর কারো কারো।
শুধু তুমি থাকছো না।
তুমি আরো কিছুদিন এখানেই থেকে যেতে পারো।


কষ


পেঁপের ডাঁটির কষে নিদারুণ হিংস্রতা 
তবু দাদ সারেনা ঠিকমতো

সারাজীবন যারা নিরামিষভোজী বলে প্রচার চালায়
তাদের হাড় মাংস শিরা চর্বি পাঁজরের উপাসনা
বলার তালিকা থেকে বাদ

মুখ একটা অস্থির কৌশল
ধর্ম আর কাফেরের মধ্যে নিদারুণ ফারাকসঞ্চারী

চোখ যখন সন্তানের জন্ম দিতে পারে
তখন 
সন্তানের চোখেও সেই ফুটে ওঠা উল্লাস
থাকবেই

এই জন্মকৃত পাপ এইজন্মে শোধ দিতে হয়

হিসুর গন্ধ যার কাচ্ছা থেকে যায়নি এখনো
সেও আজ ভালোবাসা চায়
আম্পান আয়লার মাঝেও
পেঁপের ডাঁটি ঠিক ধরে রাখতে চায়

মদ আর মঙ্গলের মাঝে এই একটাই কুগ্রহ 

বর্তিকা

কারোর পেছনে আমি কোনোদিন তুবড়ি জ্বালিনি
দুষ্টুমিতেও, বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে বাইক চালিয়ে জলকাদা ছেঁটাইনি সেভাবে, ঝাঁপ বন্ধ করা আছে দেখেও
ফাঁক দিয়ে সিগারেট, বিড়ি চাইনি কোনোদিন; পূজোপালি উৎসবের রাতে যেরকম দেখা যায় ; আমি সেরকম নই বলে, এক আশ্চর্য মহিমার জগৎ গড়ে ওঠে আমার চারদিকে। ক্রমে ভিড় বেড়ে ওঠে ।
মধুনীল পাখিদের প্রস্ফূটিত আলো অমাবস্যাকে ঢেকে দেয়; মোম জ্বলে, মরুতৃষ্ণার রাতে জন্ম নেয়
গুচ্ছ পালকের মাঝে শীর্ণকায় আলোর কুসুম ।


বেদমন্ত্র

কবে পাব বেদমন্ত্র ভাবতে ভাবতে রাত ভোর হয়ে যায়। শরীরে প্রতিমুহূর্তে ক্ষোভ লোভনীয় হিংসার কথা বলে। বাদামী ভ্রূণের গাছে জল দিতে দিতে বেলা বেড়ে যায়। আমাকে হিসেবের বাইরে রেখে যারা বারবার নূতন করে অংকের কাটাকুটি খেলে। তাদের সামনে আমি অনায়াসে নিজস্ব গন্ডীর ভেতর অনর্গল গোল গোল পাক খাই। ওদের বুঝিয়ে দিই আমার প্রতিটি মুহুর্তের পাগলামি আসলে একজন্ম জটিলতার ঘানি ছাড়া কিছু নয়। যা কোনো লন বা রোয়াকের সন্ধ্যায় কারো সাথে আড্ডা বা ঠাট্টা মস্করায় ভেস্তে দেবার মতো নয়।
যাদের চোখে-মুখে ঘৃণা ও বিদ্রূপের কঙ্কাল দেখে নিজের করপুটে এতদিন ভরিয়েছি কবিতার ব্রাহ্মভাষা আর আমার রোদের বল্মীক চুপিসারে শব্দের বাগান জুড়ে নিদারুণ কর্ষণ করে গেছে। সেইসব আলোকুচি দীর্ঘতর রাতের দিকে নিঃশব্দে চলে যেতে চায়। যখন দিনের তরুণী আঁচল দুর্বল প্রেমিকের সামনে খসে পড়ে ।
আয়ুর বিনাশ হলে আত্মা নাকি উড়ে যায়। সেরকম বিশ্বময় জেনে এসে এমন এক শঙ্খজীব ছেড়েছি বাতাসে যে আমাকে ছদ্মবেশে রূপকের সন্ধান বলে যেতে চায়। তবু বেদের আখ্যান কিংবা  পৌরাণিক আলোকমঞ্জরী কোনোদিন স্তোত্রমিধ হবেনা আরাধ্য তপস্যায়। এই বোধে কবে পাব বেদমন্ত্র ভাবতে ভাবতে রাত ভোর হয়ে যায়।

মধুময়-- সোনালি মুখার্জি

মধুময় সোনালী মুখার্জি স্বপ্ন তোমায় দিলাম লিখে রেখো যত্ন করে,  ভালোবাসা দিলাম তোমায় নিও হৃদয় ভরে l তোমার সাথেই পথ চলা,  তোমায...