মুসাফির গৌতমের কবিতা--
১
আধখোলা জানলা
তোমার আধখোলা জানলায় আঁকিবুকি কাটি একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়বের,,,কিন্তু যে তোমার জৈবিক আস্তরণের চড়াই-উৎরাই
ডিঙিয়ে এঁকে দেয় সিংহের পরাক্রমী থাবা-সে তবে কে ?
মায়াবী জাল বিছিয়ে বসে আছ তুমি
আমি তোমাকে মুক্ত আকাশের স্বপ্ন দেখাতে পারি,,,ঘন ঘোর শ্রাবণী অমাবস্যার
মুহুর্মুহু বিদ্যুতের ঝলকানিতে তুমি উর্বশী হতে পারো,,,কিন্তু জানি তবুও তুমি আসতে পারবে না-কারণ তুমি যে বন্দি।
যে মাপকাঠিতে বিকিয়েছ তোমার সর্বস্ব
যার স্বপ্ন দেখেছ,,,আজন্ম লালিত শিক্ষায়
তাকে কি সহজেই অস্বীকার করার দুঃসাহস দেখাবে ?
না পারবে না,,, তাই আমি কড়ি গুণে যাই
তোমার আধখোলা জানলায়।
(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত)
(২)
হৈমন্তী সুখ
মুসাফির গৌতম।
হাত বাড়ালে ভালোবাসা
যায় গো কেন দূরে,
কলঙ্ক আর কালিমা-তে
কপাল কেন পুড়ে ?
দুষ্টু চোখের মিষ্টি হাসি
আঘাত হানে বুকে,
সে আঘাতে ঘনায় আঁধার
আমি মরি দুঃখে।
কিশোর বেলার খেলার পুতুল
ছিলে তুমি বধূ ,
তোমার প্রেমে জমতো শুধু
টাটকা সতেজ মধু।
আজো তোমায় হাতড়ে খুঁজি
রাই কিশোরী দেখে,
তোমার চলন তোমার বলন
আবেশ গন্ধ মেখে।
তুমি ছিলে হৈমন্তী সুখ
শিশির ঝরা রাতে,
তাইতো আজো কাটাই নিশি
হিমেল আশার প্রাতেঃ।
(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত )
(৩)
কোজাগরী
মুসাফির গৌতম
তুমি যদি আমার আকাশে কোজাগরী পূর্ণিমার চাঁদ হতে,,,তোমার সমস্ত জ্যোৎস্না আগলে রাখতাম অন্তরতম ভালোবাসা দিয়ে।
আজ কিছুটা সময় তোমাকে দেখে গেলাম,,,আমার সমস্ত অনুভূতি দিয়ে
সংসারের সময় ব্যয় করে শুধু দেখেই গেলাম।
তোমার দু'কূল ছাপানো হাসি,,,হৈমন্তী গোধূলিতে খেলে বেড়াচ্ছিল নাতি দৈর্ঘ্য কুন্তল রাশি,, আধখোলা ভরাট বুক,,,
সুগভীর নাভি সহ নির্মেদ পেট।
আর কি দেখলাম জানো,,,তোমার মায়াময় ঘোর লাগা চোখ দুটো,,,তোমার হাসিতে ঝরে পড়ছিল সুগঠিত দন্ত যুগলের সারি।
আর কি দেখলাম না তাই বলো!দেখলাম সুক্ষ কোমর,,,সুডোল পশ্চাৎপট!
এ আমি শুধু দেখেই গেলাম,,,কারণ আমি তো পুরুষ,,,এরকম করে কোন মেয়ে তোমাকে দেখে না,,,দেখবেও না।
আর এরকম করে কোন পুরুষও তোমাকে দেখে না,,,কারণ আমি কবি বলেই তোমাকে নিঁখুত চিত্রায়নে দেখলাম-কোজাগরী।
মাত্র ক্ষণিকের দেখা,,,কিন্তু আমার মাথায় কোন অভিসন্ধি ছিল না,,,ভালো লাগছিল তাই,,,দেখছিলাম।তোমাকে আমার বিছানা-সঙ্গী করার কথা একবারও ভাবিনি,,,তাহলে কেন তোমাকে এমন করে দেখছিলাম!জানি না।
তারপর তুমি চলে গেলে,,,কোথায়!জানি না।
জানার আগ্রহ রাখি নি।
তুমি বিশ্বাস করো কোজাগরী,,,এ দেখায় আমার কোন লোভ ছিল না ,,,লালসা ছিল না ,,,ছিল শুধু অপার সৌন্দর্য্য মুগ্ধ নিষ্পাপ আত্মসমর্পণ।
তুমি আমাকে দেখোনি,,,আমি এক কোনে
চুপচাপ বসে ছিলাম ঠিক নিশ্চল বকের মতো।কিন্তু আমি শিকারি ছিলাম না।
তোমার সাথে আমার কোন পরিচয় নেই,,,
তোমার জন্য আমার এ প্রেমার্ঘ্য নিবেদন,,,এ পৃথিবীর কেউ জানল না,,,আর জানবেও না,,,এমনকি তুমিও না।
তুমি যেখানেই থাক,,,ভালো থাকো,,,আমার প্রেমিক হৃদয়ের সিক্ত ক্ষরণ লিখে রাখলাম কোজাগরী,,, আমার কবিতার অক্ষরে-অক্ষরে তোমার মূর্ত্য প্রতিমূর্তির স্মরণে।
(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত)
(৪)
সভ্যতার পিলসুজ
মুসাফির গৌতম
কেউ করে চাষবাস
কেউ কাটে মাটি,
কারো বা উ-ঠোন খানি
ঝকঝকে পরিপাটি।
সাঁওতাল রমণীর
যাদু ভরা হাতে,
ফুল ফল লতাপাতা
আঁকে দেখি রাতে।
বিছায়ে তা-লের চটি
বসে নানা জনে,
রাইমণি বাহামণি
মাতে সুরে গানে।
সারাদিন হাড়ভাঙা
শ্রম দেয় ক্ষেতে,
নারী আর পুরুষেতে
একসাথে মেতে।
ঠিক যেন কুঁদে গড়া
শরীরের ছাঁচে,
অপরূপ শোভা নিয়ে
নাচে আর বাঁচে।
আধ ফোটা চাল সেদ্ধ
সজিনার শাকে,
সেরে নেয় প্রাতঃরাশ
বিরতির ফাঁকে।
উল্কিতে ভরা বুক
কিম্বা গলা,
কপালেও টিপ আঁকা
হাতের পলা।
প্রেম আর মধু রসে
কতো মাখা-মাখি,
ওরা যেন সাত সুরে
বাঁধা সাকি বাকি।
এভাবেই নিশিদিন
চলে হেসে খেলে,
সভ্যতার বিষবাষ্প
দেখা নাহি মিলে।
(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত)
(৫)
মৌলবাদী জিঘাংসা
মুসাফির গৌতম
জ্বলছে আগুন,,,দাউদাউ করে
লেলিহান শিখা গিলছে আকাশ
আজ আর রক্ষে নেই-মার মার উঠেছে রব; কে কোথায় যাবে তার কোন ঠিক নেই।
লাঠির ঘায়ে কেউ বা মূর্ছা যায়,,,কেউ বা হারায় প্রাণ,,,নারী ইজ্জত ঢাকে আঁচলে
তবু ইজ্জত খোয়া যায়-নারকীয় তাণ্ডবে।
অবলা শিশু কাঁদছে অঝোরে,,,অবলা পশু
তারও মৃত্যু পরোয়ানা কেড়ে নেয় জ্যান্ত শরীর,,,আর কোনটা বা প্রকাশ্যে চুরি হয়ে যায়-গুপ্ত অন্ধকারে!
বধির শাসকের ঘুম ভাঙে বহু দেরী করে,,,ততক্ষণে "তিনকড়ি কর্তার" সাধের সংসার জ্বলে পুড়ে খাক!
নির্বিকার প্রশাসন,,,দেখেও নিশ্চুপ থাকে ঠায় দাঁড়িয়ে!
তাহলে,,, এরাই বা কম কিসে মদতদাতা হিসেবে ?
অবশেষে বদলির আদেশ আসে,,,উপর মহলের-কুশলী(!)সরকার বলে দোষীরা শাস্তি পাবে।
সে কবে ?
একদল মার খায়,,,একদল মারে আর একদল প্রতিবাদ করে-রাজপথে।
আর বহু দলীয় গণতন্ত্রে কাদা ছোড়াছুড়ি করে শাসক বনাম বিরোধী দল!
এখানেও খোঁজে ভোটের রসদ!
হায় মানবতা!কি দুর্দিন এসেছে আজ পৃথিবীতে!
ইতিহাস বহু প্রমাণ রেখে যায়,,,প্রকৃত দোষীদের শাস্তির বদলে এম এ লে-এম করে
মসনদে পাঠায় শাসক।
এটাই ইতিহাসের চরম নিদর্শন,,,আর যে যায় সে চিরকালের মতো চলে যায়,,,
সে কিন্তু ফেরে না কখনো।
(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত)
(৬)
তুষ্টি লাভ
মুসাফির গৌতম।
রাজ নীতিটা বেশ জমেছে ,তোষণ ভরা খামে।
হাট বাজারে বিকোয় দেদার,
অতি সস্তা দামে।
গদির জন্য চলছে হাঁটা,
সরিয়ে দিয়ে পথের কাঁটা।
এই না দেখে সাতসকালে,কপাল ভিজে ঘামে!
(সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত)
No comments:
Post a Comment