Tuesday, 16 November 2021

কৌস্তুভ দে সরকারের গুচ্ছকবিতা--

কৌস্তুভ দে সরকারের গুচ্ছকবিতা--

নিশ্চিত-অনিশ্চিত

চুমুর চেয়ে শক্তিশালী আরো কিছু থাকলে নিতে পারো।
নাও। নিয়ে নাও।
আর তো কিছুদিনের জন্য এই গ্রহে আছি।
জেগে আছি।
এখনো বিবর্ণ লতার ফাঁকে
খুঁজে পেতে পারো।
রোজ রাতে হিম পড়ে। ভিজে যাই।
সকালে আবার রোদে তরতাজা হয়ে উঠি।
আর কিছুদিন।
তারপর কোনো একদিন
তল্পিতল্পা সহ উড়ে যাবো 
ভিন দেশে। ভিন গ্রহে।
যেখানে আমার সাথে দেখা হয়ে যেতে পারে আর কারো কারো।
শুধু তুমি থাকছো না।
তুমি আরো কিছুদিন এখানেই থেকে যেতে পারো।


কষ


পেঁপের ডাঁটির কষে নিদারুণ হিংস্রতা 
তবু দাদ সারেনা ঠিকমতো

সারাজীবন যারা নিরামিষভোজী বলে প্রচার চালায়
তাদের হাড় মাংস শিরা চর্বি পাঁজরের উপাসনা
বলার তালিকা থেকে বাদ

মুখ একটা অস্থির কৌশল
ধর্ম আর কাফেরের মধ্যে নিদারুণ ফারাকসঞ্চারী

চোখ যখন সন্তানের জন্ম দিতে পারে
তখন 
সন্তানের চোখেও সেই ফুটে ওঠা উল্লাস
থাকবেই

এই জন্মকৃত পাপ এইজন্মে শোধ দিতে হয়

হিসুর গন্ধ যার কাচ্ছা থেকে যায়নি এখনো
সেও আজ ভালোবাসা চায়
আম্পান আয়লার মাঝেও
পেঁপের ডাঁটি ঠিক ধরে রাখতে চায়

মদ আর মঙ্গলের মাঝে এই একটাই কুগ্রহ 

বর্তিকা

কারোর পেছনে আমি কোনোদিন তুবড়ি জ্বালিনি
দুষ্টুমিতেও, বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে বাইক চালিয়ে জলকাদা ছেঁটাইনি সেভাবে, ঝাঁপ বন্ধ করা আছে দেখেও
ফাঁক দিয়ে সিগারেট, বিড়ি চাইনি কোনোদিন; পূজোপালি উৎসবের রাতে যেরকম দেখা যায় ; আমি সেরকম নই বলে, এক আশ্চর্য মহিমার জগৎ গড়ে ওঠে আমার চারদিকে। ক্রমে ভিড় বেড়ে ওঠে ।
মধুনীল পাখিদের প্রস্ফূটিত আলো অমাবস্যাকে ঢেকে দেয়; মোম জ্বলে, মরুতৃষ্ণার রাতে জন্ম নেয়
গুচ্ছ পালকের মাঝে শীর্ণকায় আলোর কুসুম ।


বেদমন্ত্র

কবে পাব বেদমন্ত্র ভাবতে ভাবতে রাত ভোর হয়ে যায়। শরীরে প্রতিমুহূর্তে ক্ষোভ লোভনীয় হিংসার কথা বলে। বাদামী ভ্রূণের গাছে জল দিতে দিতে বেলা বেড়ে যায়। আমাকে হিসেবের বাইরে রেখে যারা বারবার নূতন করে অংকের কাটাকুটি খেলে। তাদের সামনে আমি অনায়াসে নিজস্ব গন্ডীর ভেতর অনর্গল গোল গোল পাক খাই। ওদের বুঝিয়ে দিই আমার প্রতিটি মুহুর্তের পাগলামি আসলে একজন্ম জটিলতার ঘানি ছাড়া কিছু নয়। যা কোনো লন বা রোয়াকের সন্ধ্যায় কারো সাথে আড্ডা বা ঠাট্টা মস্করায় ভেস্তে দেবার মতো নয়।
যাদের চোখে-মুখে ঘৃণা ও বিদ্রূপের কঙ্কাল দেখে নিজের করপুটে এতদিন ভরিয়েছি কবিতার ব্রাহ্মভাষা আর আমার রোদের বল্মীক চুপিসারে শব্দের বাগান জুড়ে নিদারুণ কর্ষণ করে গেছে। সেইসব আলোকুচি দীর্ঘতর রাতের দিকে নিঃশব্দে চলে যেতে চায়। যখন দিনের তরুণী আঁচল দুর্বল প্রেমিকের সামনে খসে পড়ে ।
আয়ুর বিনাশ হলে আত্মা নাকি উড়ে যায়। সেরকম বিশ্বময় জেনে এসে এমন এক শঙ্খজীব ছেড়েছি বাতাসে যে আমাকে ছদ্মবেশে রূপকের সন্ধান বলে যেতে চায়। তবু বেদের আখ্যান কিংবা  পৌরাণিক আলোকমঞ্জরী কোনোদিন স্তোত্রমিধ হবেনা আরাধ্য তপস্যায়। এই বোধে কবে পাব বেদমন্ত্র ভাবতে ভাবতে রাত ভোর হয়ে যায়।

No comments:

Post a Comment

মধুময়-- সোনালি মুখার্জি

মধুময় সোনালী মুখার্জি স্বপ্ন তোমায় দিলাম লিখে রেখো যত্ন করে,  ভালোবাসা দিলাম তোমায় নিও হৃদয় ভরে l তোমার সাথেই পথ চলা,  তোমায...