বহ্নি শিখা (ঊষা দত্ত)র দুটি কবিতা--
ও-রে, করলি কি যে
ও-রে ও-রে করলি কি যে
শ্যামলা রঙা পীত বরনী
শেষে কিনা তারে করলি বিয়ে!
যতোই বলো লক্ষী আমার।
উদোম বেড়া লক্ষীছাড়া
অভাব জরা চালচুলাহীন এক ঘরে।
চরণ চপল ঠোঁটে চপল
চুল খাটো এক মেয়ে!
শেষে কিনা তারে তুললি নেয়ে!
যতোই বলো সে যে আমার।
ল্যাংড়া পায়ের অন্ধ চোখের
সার্বক্ষণিক ভরের জ্যোতি ধরে,
ও-রে ও-রে করলি কি যে
শেষে কিনা খাটো-বাটো
চ্যাপ্টা নাকি চোখ বোজা এক মেয়ে!
যতোই বলো সে যে আমার।
হৃদয় মানিক পড়শি বিজ্ঞান
দুখের সাথী খুবই ধৈর্য ধরে,
ও-রে ও-রে করলি কি যে
শেষে কিনা পিংলাচুলা
থেবড়ো গড়ন ট্যারা একটা মেয়ে!
যতোই বলো সে যে আমার।
মনের বাহন বাচাল জীবন
অদৃশ্য-মন-বর্ণমালা ঠিক পড়ে।
ভালোই হলো,ভালোই হলো।
হাড় হা-ভাতে এমন মেয়ে
খাক না দু'টো গতর খেটে
সোনার বাঁকা আংটি ছেলের ঘরে।
-----------
কি দেবো তোমায়?
হীরা পান্না? চুনী জহরত কি দেবো তোমায়?
দামী উপহারে সাজাবো সামর্থ্য কোথায়?
ভরা পুকুরের প্রশস্ত ললাটে কমলার কোয়া রেখেছি,
স্পর্শ করে যায় বাতাসে-সাগরে ঢেউ তুলে,
বুঝো কি বুঝো না,আকাশের রঙ তখন গোলাপি।
তীর ছোঁয়া ঢেউয়ের শব্দ ধরে রাখি গোপনে,
সেটুকুই আমার পাথেয় হয়েও যায়- জানতেই পারো না।
দামি কিছু নেই বলে গাছের কোটরে জীবন,
তবুও অলক্ষে ছুঁয়ে যায় কপোল -এক বিন্দু আবির ,
অনুভব আসে কি আসে না অজানাই থেকে যায়,
জিজ্ঞেস করা হয় না কোনোদিন-কি আর দেবো তোমায়।
------
No comments:
Post a Comment