Tuesday, 16 November 2021

সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিকের কবিতা--

সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিকের কবিতা--

ছোঁক ছোঁক ছ্যাঁকায়

ছ্যাঁকা লেগেছে, ইস্!
গোদের ওপর বিষফোঁড়া !
বেলতলাতে যেতে ন্যাড়া
তবু একপায়েতেই খাড়া!
বুকের পাটার উচ্ছ্বাসে
হায়রে!কোথা হৃৎ-কম্প!
নাক-কানটা মুলেই বুঝি
ভালোবাসি লম্ফ-ঝম্ফ |
উঃ!উঃ!এই জ্বলুনির
জ্বালাটা বড়ই জুতসই !
মান-হুঁশের নাগাল পেতে
লাগবে তাই লম্বা মই |
মই!মই! কোথায় সেটা? 
খুঁজতে গিয়ে পাচ্ছি বাধা !
মনন-কক্ষে ক্যাম্প বসিয়ে
কারা যেন ছুঁড়ছে কাদা ?
কাদা মেখে কালো মুখে
ভালো-মন্দ যাচ্ছি ভুলে,
গোবর গনেশ এবার নাকি
নাম লেখাবে ভদ্র কূলে !
ওহো !সাত-পাঁচ ভেবেও
পালটি খাই ঘেমে নেয়ে,
কালঘামটা প্রতি পদেই
ব্যস্ত থাকে দিনটা জয়ে |
তুড়ি মেরে তুলকালামে
ঘামছি যেন রক্ত-দোষে!
লাগলে ছ্যাঁকা তারপরেতে
উদাস মনে থাকছি বসে |
রঙ্গ-নাট্যে ওস্তাদ-দলবল
মেতে থাকে নানা বাজিমাতে,
ওহো !লাগল নাকি ছ্যাঁকা!
জ্বালাটুকু সয়েই যাচ্ছে ধাতে |

বাঁচি-না-বাঁচি

বাঁচা অথবা না-বাঁচার মাঝখানে দোলাচলে
ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমানের সময় যায় থমকে...|
অথচ যা সম্ভব, তাতেই মেলে বাঁচার রসদ,
অথচ যা প্রাপ্য, পেলেই তা সুখের আস্বাদন,
জেনেবুঝেও কেন যে প্রাণের সাথে হয় আড়ি ?
অথচ বাঁচন-জুড়ে সাগরকে কেউ দিচ্ছে পাড়ি !
জীবন-মৃত্যুর দোল-দোলায় বিপন্নতা জয় করে
আজীবন আনন্দকেই করি ঘর-জামাই,
উচ্ছ্বাসে রাত্রিদিন বলবে উঠে উচ্চস্বরে,
‘কেয়াবাত !কেয়াবাত !কেয়াবাত !’
দুঃখ-দৈন্য-দশার জবর মরণ হলো এতদিনে
সুসময়ের অভিসারে |
জঘন্য জ্বালারা হাঁটাচলার ফাঁক-ফোকরে
কার্পেটের তলায় ধূলি হয়ে আছে শুয়ে ,
চেনা খুব খুব দায়!চেনার কর্নিয়ায় আচ্ছন্নতার
ছানি আসমানকে থাকে ছুঁয়ে!
বিতৃষ্ণায় তখন যমদূতেরা বিপন্ন জীবের পাশে
মহাকোলাহলে বুঝি গাইছে ক্যারোল—
ওরা মরণের জয়ধ্বনি তারস্বরে তুলে
জীবনের চায় পরাজয়,
তলানির প্রাক্-মুহুর্তে একবারটি বাঁচনের দিকে হেলে
না-বাঁচনের চাই যে তুমুল ক্ষয় |

রাজী-অরাজী

ভালবাসা ঝড়-জল-বর্ষায় বহু গঞ্জনা সয়ে
এখন নাকি রাজী অগস্ত্য-যাত্রায় !
এমন যাত্রার সম্ভাবনায় হৃদয়ের তোলপাড় কি
থামবে খুব সহজে ?
থামে না, থামে না—নিঃশ্বাসে জানি অক্সিজেনের
রসদও ক্রমহ্রাসমান !এতকাল পরে কুশীলবরা
নাম-না-জানা বোধের ভেতর থাকে দোদুল্যমান !
জরুরী তাপ-উত্তাপে ঔরসের দিলখোলা আয়োজন
তখন রয়েছে হিমাঙ্কের নীচে মেরুর দুনিয়ায়—
সেখানে ভালো লাগার ওম হারায় ইন্দ্রজাল,
সেখানে পেলব অন্তরের আকুতিও বড় মূল্যহীন |
ফিরে এসো ভালো মনটির ভালো বাসা
তুড়ি মেরে জঞ্জাল-ভ্রূকুটি,
নুয়ে পড়া জীবনের পাশে বেঁচে থাকার শপথ নিলে
দিনগুলোও হয় দ্যুতিময় পড়ন্ত মানসে |
ভালবাসা ঝড়-জল-বর্ষায় নানা গঞ্জনা সয়েও
এবার অরাজী অগস্ত্য-যাত্রায় !

হাঁ !

হাঁ!
হাঁ-য়ের গর্ভে জাত বিষ্ময়-মাছির ভনভন
ভনভন...ভনভন...!
নানা ঘটনাই আচমকা কদম কদম
বাড়ায় চরণ খুব চুপিসারে,
শব্দহীনতাও জাতক-জাতিকার পাড়ায়
অসম্ভবের মাদল বাজায় যখন-তখন |
আবার হাঁ!
গোগ্রাসে গিলতে থাকে সারাৎসার!
বাহবায় পারে বলতেও, ‘বাঃ!বাঃ!বাঃ!,
অথবা মারকাটারি সুন্দরের পেছন পেছন
কদাকার অক্রে-বক্রে ছড়ায় হাহাকার |
ঘোরের সুর্মা-টানা চোখ দুটি আকুলি-বিকুলি
দিলদরিয়ায় আরেক বন্য তুলকালাম!
অমন হাঁ-য়ের মধ্যিখানে তাবড় বিশ্বটার
বাস্তবতায় অবতরণ প্যাঁচ-পয়জারে,
হারানোর পূর্বক্ষণে সাবধানতাই ধরুক না হাত
তাজ্জবের ভূকম্পনে যেহেতু হারাই বারংবার |

No comments:

Post a Comment

মধুময়-- সোনালি মুখার্জি

মধুময় সোনালী মুখার্জি স্বপ্ন তোমায় দিলাম লিখে রেখো যত্ন করে,  ভালোবাসা দিলাম তোমায় নিও হৃদয় ভরে l তোমার সাথেই পথ চলা,  তোমায...