১
মা আসছে
নীল আকাশে যাচ্ছে ভেসে সাদা মেঘের ভেলা
ঘাসের ডগায় শিশির আগায় জল ফড়িংয়ের খেলা
শিউলি সুবাস আনছে ডেকে ঘরের থেকে বাইরে
মিষ্টি হেসে দোপাটি বলে আর তো উপায় নাইরে।
সোনার আলো ছড়িয়ে রবি হাসছে কেমন পুবে
অপরাজিতা খুব সাজছে আকাশ নীলে চুবে
পাখিরা সব কলকলিয়ে করছে কোলাহল
বর্ষা মেয়ের ফিরতে গিয়েও মনে দোলাচল
শাপলা শালুক মিষ্টি হেসে ভরাচ্ছে যে মন
পদ্মফুল শরৎ কালের ভীষণ আপন জন
গুনগুনিয়ে ভ্রমর কুল শোনাচ্ছে যে গান
মৌমাছি আর প্রজাপতির বাড়ছে মধুর টান
হাওয়ার তালে দুলিয়ে মাথা হাসছে কাশের বন
বছর পরে মা আসছে তাইতো খুশি মন
ঢ্যাঙকুড়াকুড়, ঢ্যাঙকুড়াকুড় বাজছে খুশির ঢাক
কাঁসর ধ্বনি বোল তুলছে রোজের কাজ কদিন থেমে থাক।।
২
মা
তোমার মুখটা দেখলে আমার তাঁর কথা মনে পড়ে যায়।
সেই তিনি যিনি অবহেলে হাসি মুখে দশ দিক সামলান।
তাঁর তো তাও দশটা হাত।
দশ হাতে দশ প্রহরণ।
তুমি কি করে পারো মা
এত দুঃখ, কষ্টে তোমার বরাভয়ের এই অমলিন হাসি হাসতে।
তোমার অবাধ প্রশয়ে বড় হওয়া
তোমার নিরাপদ কোলে ঝাঁপিয়ে পড়া
এই অবোধকে একটু শিখিয়ে দিও
এই কঠিন, কঠোর পৃথিবীকে ভালোবেসে হাসতে হাসতে মোকাবিলা করার মন্ত্র।
#######################
৩
অহল্যা
প্যাঁচার কর্কশ শব্দের মত দিন আসে
বাদুড়ের ওল্টানো ডানায় নামে রাত
নির্জন দুপুরেরা যেন হাক্লান্ত নিস্তেজ সারমেয়
বেশ কাটছে----
দিন, মাস, বছর....
পাথরের সহনীয়তা সাংঘাতিক
রোদ, বৃষ্টি, ঝড়েও দৃঢ় প্রত্যয়ী সংবদ্ধ
বন্ধু, প্রস্তুরীভূত হওয়ার সাধনায় আমরা সিদ্ধিলাভের দোর গোড়ায়
আমাদের বুক হয়ে উঠেছে পাষণের মত দৃঢ়, বিবেকহীন
শত আঘাতেও কোনো তরল নির্গত হয় না।
এসো নিজেদের বাহবা দিই
রাত্রির কালোছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হোক।
ডিনামাইট.....
#######################
৪
শরৎ আনবে
বলেছিলে, শরতের আলোমাখা রোদে
ডানা শুকিয়ে দেবে
তাই বর্ষায় শালিক পাখি হয়ে ভিজেছি খুব
এখন আকাশ মেঘেই ঢেকে থাকে, রোদ ওঠে খুব কম
ঋতুচক্র অচল হয়ে পড়ছে
ভেজা ডানা নরম হয়ে যাচ্ছে,হয়ত পচন
রোজ রাতে জ্বর আসে।
তবু জানি একদিন ঠিক তুমি শরৎ আনবে
দেবে সীমাহীন আকাশে উড়ার স্বাধীনতা
#######################
No comments:
Post a Comment