১
পথিক
তুমি একাই হাঁটছো মহাবিশ্বের পথে
জীবনের মধ্যাহ্ন সময় যখন ছুঁই ছুঁই করছে
শ্রান্ত ক্লান্ত শরীর আর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে
দাঁড়িয়ে থাকার সাহস তুমি হারিয়ে ফেলেছো
নিজের উপরে তোমার ভীষণ অভিমান
পার্থিব জড় জগতটাকে উইপোকার মতো মনে হয়
ভাবছো একটু একটু করে অন্তঃসার করে তুলছে
পিছনে ফিরে তাকালে দুর্বল হবে মন
রুদ্ধ হবে এগিয়ে যাবার সকল
পথ
বাকী আছে অনেক পথ,
যেতে হবে অনেক দূর
ভীত পথিকের মনের অজান্তে কন্ঠে আসে গান
সে গানে তার থাকেনা কোন সুর
তবুও সে গান মনের ভীতি করে দূর
তেমনি করে তোমার সকল ক্লান্তি করিতে হবে দূর
গাহিতে হবে গান কন্ঠে তোমার সুর হবে সুমধুর
সে সুরে মোহিত হবে এজগত সংসার
দূরে যাবে ক্লান্তি তোমার অমঙ্গল যতো আছে হবে সংহার।
তখনি কবির কন্ঠে বলিবে তুমি
"কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দৈঘ্য পথ
উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?"
২
"বিদ্রোহী নজরুল "
তোমার বজ্রকন্ঠে উচ্চারিত বজ্রের ধ্বনি,
ঘুমিয়েছিল যতো কাঁচা পাকা জাগিয়েছো তুমি|
যদিও ছিল শিকল পরা ছল,
জেলের তালা ভেঙে করেছো বিকল|
কি উন্মাদনায় মত্ত ছিলে তুমি?
বুঝেছিলো বাংলা মা বুঝে ছিলো তোমার মাতৃভূমি|
প্রতিটি রক্ত কণিকা জাগ্রত করেছিলে যুবকের,
সময়ের ডাক ছিল প্রতিটি শব্দে|
উচ্চারিত ধ্বনি শাসক শোষক কে
করেছে লাঞ্ছিত,
ধর্মান্ধদের কথার চাবুক মেরেছো পিঠে|
সত্য কথা বলেছো মুখে তা যতই হোক তেতো।
হুজুর আর ঠাকুরের যত বাহাদুরি
বুঝিয়ে দিয়েছো সুযোগ পেলেই তারাও করে চুরি।
অন্যায় আর অবিচারের ধরেছো গলা চেপে
যার হিস্সা যতটুকু দিতে হবে মেপে,
বিদ্রোহী তুমি লিখেছো বিদ্রোহী কবিতা|
আবার প্রেমের সাগর ছিলে চিঠি পড়ে জানি তা।
নারীকে সাজিয়েছো তুমি প্রকৃতির সাজে,
তোমার সুরের মূর্ছনায় আজও তা কানে বাজে|
কিযে অপরূপ সৃষ্টি তোমার কিযে তার ধার?
ব্যাকুল হয়ে টানে সে মধুর গানে হৃদয় আছে যার|
জন্মেছো চুরুলিয়ায় বড়ো হয়েছো ত্রিশাল,
বিশ্বভারতীর হাতে দিয়েছো তুলে আলোর মশাল।
সময় যে হাতে ছিল তোমার অল্প,
এটুকু সময় ভরিয়ে দিয়েছো সাহিত্যের সবটুকু গল্প।
সবার হৃদয়ে রবে তুমি মহান কবি
বলবে সবাই তোমাকে হে বিদ্রোহী|
৩
কবিগুরু
নতজানু হয়ে প্রনাম জানাই হে কবিগুরু,
জ্ঞানের ভান্ডার তোমার দিয়েছো খুলে|
তাই তো তোমারে কখনো আমরা যাবো না ভুলে।
তোমার গীতাঞ্জলি বিশ্বদরবারে বাঙালীকে দিয়েছে মাথা উঁচু করে |
তোমার লেখা সমাদৃত হয়েছে এই বিশ্ব দরবারে।
জাতি ধৰ্ম বর্ণ সকল কিছুর তুমি উর্ধ্বে ছিলে
মানবতার সকল দুয়ার তাই তুমি দিয়েছো খুলে।
ধর্ম তোমার কাছে ছিল শুধুই মানুষের সাজ
তাই তো গড়তে চেয়েছিলে তুমি ব্রাক্ষ্ম সমাজ।
তোমার হাতের স্পর্শ দিয়েছো যেখানে,
সাহিত্যের ভান্ডার তাই ভরেছে সেখানে|
প্রতিদিন ভোর হয় পাখির কলতানে,
তোমার গানের সুরের আবাহনে|
এখনো সন্ধ্যা আরতি হয় তোমার গানের মূর্ছনায়,
কি অপরূপ সৃষ্টি তোমার ভাবি তাই নিরালায়|
শতবর্ষ পূর্বে ভেবেছো যা মনে?
এখনো তোমার বাক্য সত্যি হয় প্রতি ক্ষণে ক্ষণে।
যতদিন বাংলাভাষা পৃথিবীতে রবে
ততদিন তুমি কবিগুরু জানিবে সবে।
No comments:
Post a Comment