উইলিয়াম শেক্সপিয়ার
(অনুবাদ:অলভ্য ঘোষ)
আমি সত্যি কারের দুজনের ভালোবাসার ভিতরে কোন বাধা স্বীকার করি না!
ভালোবাসা ভালোবাসাই নয় যদি তা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বদলে যায় বা পরিবর্তিত হয়।
অথবা প্রেম ছেড়ে চলে গেলে প্রেম মুছে যায়!
এটা হল কিনা একটি চিরস্থায়ী চিহ্ন।
যা হাজার ঝড় জল ঝাপটাতেও কখনো কেঁপে ওঠে না!
এটি হলো সেই নক্ষত্রের মত যে প্রত্যেক পথ হারানো পানসি নৌকাকে পথ দেখায়।
যার মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়;কিন্তু যার উচ্চতা নিশ্চয়ই মাপা যায়!
ভালোবাসা সময়ের শক্তির অধীনস্থ নয়;
যদিও সময়ের হাতে গোলাপি ঠোঁট এবং গালকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে।
ভালোবাসা পরিবর্তিত হয় না কয়েকটি ঘণ্টা কিংবা সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার সাথে!
কিন্তু শেষ দিন পর্যন্ত কিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে।
যদি আমি এটি সম্পর্কে ভুল হয়ে থাকি;এবং ভুল প্রমাণিত হই;
তবে আমি কখনো কিছু লিখিনি;এবং কোন মানুষই কখনো ভালোবাসেনি।
ভাঙা ব্রিজ-১
সেই ব্রিজ টা দেখতে পেলাম
কতবার স্বপ্নের ভেতর দেখেছি;
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া
কোন গ্রামে ভাঙ্গা ব্রিজটা ঠায়
দাঁড়িয়ে আছে; সেই কবে থেকে।
লোক চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে
জনসংযোগের যখন সব রাস্তা বন্ধ
তবে তার দাঁড়িয়ে থাকার কি দরকার!
তবুও ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন
বুড়ো বটগাছটার মত ভাঙ্গা ব্রিজটা।
কত রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে;
কত পাতা গজিয়েছে কত পাতা ঝরে গেছে;
কত মাস কত বছর গেছে তবু ঠায় দাঁড়িয়ে
রয়েছে ব্রিজটা। কঙ্কালসার ভেঙে পড়া শরীরের
অবশিষ্ট নিয়ে দুটো গ্রামের সম্পর্কের দলিল চিত্র
হয়ে। ভাঙ্গা ব্রিজটা যতই ভাঙ্গা হোক সেটা আমার
খুব চেনা। কতবার স্বপ্নের ভেতর সে আনাগোনা করে।
কত কত স্বপ্নের মধ্যে আমি সেই ব্রিজে চড়ি!
আমি যখন ভাবছিলাম স্বপ্ন আর বাস্তবে বোধহয়
অমিল প্রচুর আকাশকুসুম তফাৎ। ঠিক তখনই নন এসি
বাসের জানালা দিয়ে প্রথমবার বাংলাদেশ
ছেড়ে যাওয়ার বাঁকে যশোর না ফরিদপুর নাকি খুলনা
কোথায় যেন সেই ব্রিজটা দেখলাম। কার ভয়;
কিসের তাড়নায় কোথায় যেন কোনো রূপকথার দেশে পৌঁছতে;
কতবার আমি চড়েছি সেই ব্রিজে। স্বপ্নের ভেতরে সেই ভাঙ্গা ব্রিজটা
পড়ে আছে একটি খালের উপর। যে খালের থেকে অনেক নোংরা জল
বয়ে গেছে কিন্তু ব্রিজটা কে স্পর্শ করতে পারিনি।
ব্রিজের এক প্রান্তে আমার প্রেমিকার গ্রাম। আরেক প্রান্তে আমি
চড়ি। কোনদিন স্বপ্ন আমাকে ব্রিজ এর অপর প্রান্তে
পৌঁছে দিতে পারেনি। যতবার গেছি স্বপ্নের ভেতর ব্রিজের অন্য প্রান্তটি
অনন্তের সিঁড়ি হয়ে গেছে গ্রাম শহর দেশকাল সব ডিঙ্গিয়ে গেছে স্বপ্ন।
ব্রিজটা কি জুড়েছে আমাকে। নাকি বিচ্ছিন্ন করেছে! জানিনা দুটো দেশ
কারা ভাগ করে। কিসের অছিলায়। কিসের অজুহাতে। দুটো মানুষকে
কারা পৃথক করে। কি লাভ এই পৃথকীকরণে। যদি তাদের অন্তরে এত মিল।
মিল আত্মায়। গরমিল অংকে হবে কেন। অংকে কেন কাঁচা হয় না সবাই।
পৃথক পৃথক ব্রিজ স্বপ্নের ভেতর। ভীতিরা স্থাপন করে রাখে।
আমরা সেই ব্রিজ চড়ি। ভাঙ্গা ব্রিজ যা টলমল করে। এই ভেঙে পড়বে
মনে হয়। সত্যিই কি ব্রিজটা ভাঙ্গা।বাংলাদেশ কি ছেড়ে যাওয়া যায়।
কিছুই যায় না ছেড়ে চলে যাওয়া। যে আমার অন্তরে অন্তঃস্থলে বসত করে আছে!
উকুনের মতো! চামসি উকুন হৃদপিণ্ডের চামড়া কামড়িয়ে ধরে।
এই প্রথম নয় বহুবার আমি এসেছি এ দেশে; বহু জন্মে আমি জন্মেছি এখানে।
স্বপ্নের ভেতর; আবেগের ভেতর; সংস্কৃতির ভেতর; আমি যে বাঙালি
বাংলাদেশ তোমায় কখনো ছেড়ে যাইনি আমি কোথাও।
যতই তোমার শহর জুড়ে থাক যানজট নিথর গাড়ির লাইন।
যতই তোমার বিদেশি দ্রব্য খরচ হোক বেশি।
যতই তোমর বোরকা গোঁড়ামি সংস্কার থাক আষ্টেপৃষ্ঠে থাক মৌলবাদ।
যতই তোমার সংখ্যালঘু নির্যাতন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বলে প্রিয়া
সাহা বিতর্কিত খবরের শিরোনামে আসুক।
বাংলাদেশ তোমার বুকে আছে আমার অসংখ্য প্রেমিকারা।
যাদের হাত ধরে আমি কত কাব্য-গাঁথা স্বপ্নের ভেতর ঘুরে বেরিয়েছি।
কত কত
No comments:
Post a Comment