তপন তরফদার
এখনোও চোখ শুধুই খোঁজে তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো
ফেলে আসা সময়ের ঝরাপাতার বন্ধন হীন জমা স্তূপে
সময় যদি সদাই দেয় ব্যথার অনুভূতি তবু এই নিয়েই বেঁচে থাকা
ক্ষত-বিক্ষত করে মনের চোরা কুঠুরি মিশে যায় সময়ের মোহনায়
ঝড় উঠে ঈশান কোন রাঙিয়ে সব কালো সরিয়ে
হীরক দীপ্তির আলপথে ধেয়ে আসে শরতের সাদা মেঘ
পূর্ণ চাঁদের আলোয় বিগত দিনের ছবি পদ্মপুকুরে ভাসে
সঙ্গী হয় তারারা ফেলে আসা সেই স্মৃতির ছায়া সহচর
যতই দু ডানা ঝাপটিয়ে ধূলা উড়াই
যতই রবার ঘষি মুছে দিতে সেই কণ্ঠকে
যতই মুখ গুঁজে দিই উটপাখির মতো বালিতে
যতই অভিমানে মুখ ঘুরিয়ে রাখি অন্তরে বাজে স্মৃতিমালা
বিষণ্ণতাকে সঙ্গী করি মুখ চোরা বোরোলির মত
এ নদীর তল জানিনা দিকচক্রবালের পার দেখিনি সকাল-সন্ধ্যায় জমাটবদ্ধ দিশাহীন এক কালো আস্তরণ অবুঝ নদীর জোয়ার ভাঁটায় দুলছি কোন দিশা ছাড়াই শুধু বাতাসের তরঙ্গে ভাসে প্রেম-নেশার চাঁপা ফুলের সুগন্ধ
ব্রজবালার কোকিল কন্ঠের সুরে জেগে ওঠে একুশের বসন্ত
এক জীবনের নর্ম যেখানে ছিল একান্ত গভীর গোপন ভালোলাগা
বাউলের একতারায় বাজে “মিলন হবে কবে আমার মনের মানুষের সাথে”
সর্বনাশা কাক জ্যোৎস্নায় উজ্জ্বল চাঁদের পারিজাত কামনার ভাটিখানা
অথচ
আমাদের এক অমলিন বন্ধন ছিল
যেখানে কোন রঙের কোন খামতি ছিল না
ভালোলাগার ভাষা ছিল হৃদয়ে, সর্বাঙ্গে
প্রতি মুহূর্ত ছিল কোমলতায় মৃসন ও সতেজ ভালোবাসা
আমাদের ভালবাসার ভালোলাগার পাহাড় ছিল
পাহাড়ের চড়াই-উতরাই উপত্যকা উপভোগ করেছি
কিছুতেই ভুলতে পারিনা রাধাকৃষ্ণের ঝুলন যাত্রার রাতে
বাঁধভাঙ্গা জ্যোৎস্নায় কদম গাছের আড়ালে শঙ্খ লাগার খেলা
আবার
আমাদের দুজনের একটাই সূর্য ছিল
আমাদের স্রোতবতী এক আনন্দের নদী ছিল
নদীতে ভাঁটা হলেও প্রাণের জোয়ারে ভেসেছিলাম
বসন্তের মোলায়েম রেণু সর্বাঙ্গে মেখেছিলাম
যতদূর দেখা যায় কোন শেষ নেই
সর্বনাশা প্রেম এখন ভারাক্রান্ত অন্তরের স্মৃতি
পরিযায়ী পাখিদের মতো তুমি আছো অথচ নেই
আছে শুধু ঘূর্ণি বাতাসের অসহ্য বিষাদ
তুমি যদি নাও চাও আমি কিন্তু
অপেক্ষায় থাকবো আরো ও এক জনম।
@তপন তরফদার,প্রেমবাজার (আই আই টি) খড়্গপুর, 721306
ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ 9434077490
No comments:
Post a Comment