Friday, 29 October 2021

অর্ণব মিত্রর কবিতা গুচ্ছ--

অর্ণব মিত্রর কবিতা গুচ্ছ--


বিপ্লবের কবিতাগুচ্ছ


(১)


একলা থাকার অভ্যেসে আমার সুখ নিরুদ্দেশ,

কতই বা ভালোবেসে তুমি ভাঙতে পারো এই নিঃসঙ্গতার পরিবেশ!


(২)


আমার শরীর জুড়ে জীবন্ত লাশ,

রয়েছে ঘিরে একাকীত্বের বাস।

দূর গ্রামে পড়ে আছে জীবনের মায়ানদ,

বিপ্লব হয়ে আসছে ফিকে, শূন্য জনপদ!


(৩)


অসীম আকাশে তোমারে দুবাহু বাড়িয়ে চেয়েছি,

বিহান বেলায় ডাক দেয় বিপ্লব-

প্রেম হয়ে আছে ক্ষণজীবী,

মৃত্যুর এতো কাছে এসেও মনে হয় যেন বিপ্লবকেই ভালোভাবে চিনি!


(৪)


উন্মাদনার শিকড়ে আছে মোর বিপ্লব,

প্রিয়তমা, তোমার অশ্রু দুর্বল করে দেয় এই আগুনকে -

যে আগুন জ্বলতে শিখেছিল অনেক ধাক্কা সামলে,

প্রিয়, সবের শেষ কি এমনিভাবেই হয়?

বিপ্লব না বইতে পারার অজুহাত পরাজয়!


(৫)


শূন্যতার মাঝে শুনতে পাই ডাক,

'বিপ্লব হোক দীর্ঘজীবী'.. কে দিচ্ছে হাঁক?

কেউ ছিল না শেষে যারা বলেছিল বেঁধে দেবে সাঁকো,

এখন না মনে রাখলেও, মৃত্যুর পর মনে রেখো.

---------

ঠিকানা -61,সত্যজিৎ রায় সরণি, কলকাতা 700060

ফোন নম্বর- 6289715985


আলেয়া-- সৌম্যদীপ সাহা

আলেয়া

সৌম্যদীপ সাহা


মাঠেঘাটে টহল দিয়েই দিব্যি

কেটেছে আমাদের শৈশবকাল।

আমি ও আমার চার অন্তরঙ্গ বন্ধু,

মাঠকে বাড়ির মেঝে ও মাঠের ঘাসকে

সবুজ নকশার মাদুর মনে করতুম।

সকাল-সন্ধ্যা পড়তে বসা ও

বিকেলে খেলার পাশাপাশি

বিনোদভরের মাঠে রাতে আড্ডা

আমাদের পাঁচজনকে দিতেই হবে,

নচেৎ সেই রাতে ঘুম আর আসবেই না।


মাঠের পাশে একটা নোংরা ডোবা,

মাঝেমধ্যেই ওতে

নীলাভ এক জ্বলন্ত শিখা দেখতে পেতুম।

ভয় পেয়ে আমরা দৌড় লাগাতাম।

বড়দের মুখে শুনেছি ঐ আলো হলো

আলেয়া,আলেয়া ভূত।


গ্রামে এই আলেয়া নিয়ে 

নানা গল্প কথা প্রচলিত আছে,

কেউ বলে আলেয়া হলো 

জমিদার গিন্নির অতৃপ্ত আত্মা,

আবার কারও মতে এটি 

মহাজনের কৃতকর্মের শাস্তি প্রদায়িনী যমদূত।

দুষ্টু শিশু ভাত না খেলে 

মেয়েরা সচরাচর বলে থাকেন,

"ভাত খেয়ে নে,নইলে আলেয়া 

এসে ধরে নে যাবে।"

অমনি দুরন্ত ছেলে জলের থেকেও 

ঠান্ডা হয়ে যেত।


আলেয়া দেখা মাত্রই আমরা 

'আলেয়া ভূত এসেচে,আলেয়া ভূত'—

বলে হল্লা জুড়ে দেবার চেষ্টা করতুম।

জোছনালোকিত রাতে আলেয়া দেখা

মাত্রই সারামাঠ তোলপাড় করে ছুটে 

বেড়ানোতেই যেন —

লাখ টাকার আনন্দ পেতুম।


এরপর কেষ্ট ম্যালেরিয়ায় আমাদের 

ছেড়ে চলে গেল;

মন দিয়ে লেখাপড়ার জন্য বাবা আমাকে

পিসির কাছে পাঠিয়ে দিলেন।

গ্রামে রইল কেবল কিরণ,বেষ্টা আর দধি।

আমি ছুটিতে গ্রামে আসতুম,

চারজনের সাথে দেখা করে

মাঠে আড্ডাও দিতুম।

সন্ধ্যাকালে একত্রিত হলে

পার্শ্ববর্তী ডোবায় যদি মিটমিটে জ্বলন্ত

আলেয়াকে দেখতুম তখন আমরা 

মনেই করে নিতুম,

আকাশ থেকে কেষ্ট আমাদের সাথে

দেখা করতে এসেচে।


অতিক্রান্ত হল অনেকগুলো বছর।

এখন আমি সরকারি ব্যাংকের কর্মী,

দধি গ্রামে হাই স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক।

কিরণের নিজের ব্যবসা আছে ও

বেস্তা উচ্চ মাধ্যমিক দিয়ে বাবার

জমিতে কাজে লেগে পড়েচে।


আলেয়া কী, তা আমরা এখন

চারজনেই খুব ভালোকরে জানি—

বদহজলাভূমি কিংবা শশ্মানে 

উৎপন্ন মিথেনের সাথে বাতাসের 

অন্যান্য দহনসক্ষম গ্যাস মিশে

নীল শিখায় জ্বলে ওঠে,

এটিই হল আলেয়া।

আলেয়া ভূত বা অশরীরী নয়,

মহাজনের শাস্তির দূতও নয় আর

আমাদের হারানো কেষ্টও নয়।


আজ আমারা চারজনেই যুবক

কিন্তু রাতের তমসায় যদি

ডোবায় জ্বলন্ত আলো দেখতে পাই,

তবে চারজনে আজও 

ছুটোছুটি করে গ্রাম মাথায় 

করার চেষ্টা করি।

আলেয়া যেন আমাদের ফিরিয়ে

দেয় হারানো শৈশব ও কেষ্টকে।

--------------

নাম।সৌম্যদীপ সাহা

ডাকঘর।সিঁথি

নম্বর।6290729588

ঠিকানা।556/1 আমবাগান নেতাজী কলোনি,কলকাতা-৫০

Whatsapp6290729588



প্রদীপ দে ~ কুঁড়ে ঘর

 

কবিতা 

"অপদার্থের একশেষ"

প্রদীপ দে ~


কুঁড়ে ঘর

আকাশ ছুঁতে চেয়েছিল

কিন্তু পারেনি

অট্টালিকার অট্টহাসি

যদিও কোন কাজ করেনি।

আমিও বড়ই আশাবাদী ছিলাম

আকাশকে ধরতে পারবো ভেবে

ও কিন্তু ধরা দেয়নি।

তোমরা হয়তো বা হেসেছিলে

আমি যদিও ওসবের ধার ধারি না

আমি অবজ্ঞায় তাই শ্যেন দৃষ্টিতে

তাকিয়ে ছিলাম মাটিরই দিকে।

Wednesday, 27 October 2021

শিকড়ে শিকড়ে টান--গৌতম তালুকদার

 

শিকড়ে শিকড়ে টান।

                       গৌতম তালুকদার

***************************************

শিকড়ে শিকড়ে টান ধরেছে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে

একে বেঁকে চলে গেছে খাল অজানা সীমান্তে।

সুন্দরী,গরাণ,শাল,শিমুল,বট,অশ্বত্থ,কতো শত

জানা অজানা বৃক্ষেরা ছড়িয়ে জট ঝুলিয়ে মূল 

চেয়ে আছে আকাশ পানে নিঃস্বার্থ ভালোবেসে।   

বন মাতার আদেশে মানবের সাথে হাজারো

প্রাণির কল্যানে ওরা যেন দন্ডায়মান প্রহরী।

তবু মানুষের লালসার জিভে 

ওরা বিলুপ্ত প্রায় লোহা,ইঁট,পাথরের পাহাড়

আলোর অট্টহাসি কেড়ে নিচ্ছে মাটির সোঁদা 

গন্ধ পিচের চাদরে।

উত্তর মেরু,দক্ষিণ মেরু কু-মেরু,সু-মেরু বরফে

তাপের আঁচে হাজারো জীবানু ,ব্যাক্টেরিয়ার 

অদৃশ্য মারণ বাণ বাতাস ভেসে অট্টহাসি হাসে।

বিজ্ঞান,প্রযুক্তি নিয়ে আসে ধন কুবেরের দল 

বিজ্ঞাপনের মোড়কে রক্ত চোষে মধ্যেবিত্তের

নুন ,ঘাম আবার দুহাত জোড় করে যেন 

প্রভুর পায়ে নিজেদের সঁপেছে আমরণ ।

মধুময়-- সোনালি মুখার্জি

মধুময় সোনালী মুখার্জি স্বপ্ন তোমায় দিলাম লিখে রেখো যত্ন করে,  ভালোবাসা দিলাম তোমায় নিও হৃদয় ভরে l তোমার সাথেই পথ চলা,  তোমায...